• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহারের পরও বদলায়নি জেনারেল হাসপাতালের চিত্র

সিনিয়র রিপোর্টার : ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে প্রত্যাহারের একদিন পরও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি দেখা যায়নি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে আগের মতোই অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এবং রোগীদের নানা ভোগান্তির চিত্র পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিদ্যমান অনিয়ম চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিকভাবে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে।

বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে এখনো ময়লা পানি ও বর্জ্য জমে রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এমনকি হাসপাতালের বেড পেতেও টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সরকারি চাকরিপ্রার্থী অভিযোগ করেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা হলেও এক্স-রে করাতে তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে দুই ভুক্তভোগী সরাসরি জেলা সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এদিকে হাসপাতালের হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, সেখানে গত তিন দিন ধরে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখতে যাননি। কেবল মেডিকেল অফিসাররা দিনে একবার পরিদর্শন করেন। এরপর রোগীরা আর কোনো চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পান না।

হামের রোগী জসিম হোসেনের এক স্বজন বলেন, “চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু দিনে একবারের বেশি ডাক্তার পাওয়া যায় না। রোগীর অবস্থা খারাপ হলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। অনেক চিকিৎসক বাইরের চেম্বার নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। ভয়ে আমরা কিছু বলতেও পারি না।”

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর বালুয়া এলাকার বাসিন্দা আবু জাকের জানান, চার বছর বয়সী ছেলে জোবায়েরকে তিন দিন আগে হামের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন, “গতকাল বেলা ১১টার দিকে একবার ডাক্তার এসেছিলেন। আজ সকাল ১০টা পর্যন্তও কোনো চিকিৎসককে দেখতে পাইনি।”

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি মৌখিকভাবে হাসপাতালের দায়িত্ব পেয়েছি, যদিও এখনো লিখিত আদেশ হাতে পাইনি। তারপরও সকালে হাসপাতালে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি, বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেছি এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। এখানে জনবল সংকটের পাশাপাশি নানা ধরনের অনিয়ম রয়েছে। আমরা সেসব অনিয়ম চিহ্নিত করছি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর