
নুশরাত রুমু, সদর : নোয়াখালীর বরেণ্য শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিজন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাবু বিমলেন্দু মজুমদার আর নেই। সোমবার (১৫ জুন ২০২৬) রাত সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী শহরের হরিনারায়ণপুর মাস্টারপাড়ায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তাঁর মৃত্যুর খবরে জেলার শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। পরদিন পারিবারিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
বিমলেন্দু মজুমদার দীর্ঘদিন নোয়াখালী পৌর কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অসংখ্য শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি নোয়াখালীর সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নোয়াখালীর সাবেক সভাপতি, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ নোয়াখালী শাখা ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া নোয়াখালী সঙ্গীত বিদ্যালয় ও ললিত কলা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় গণসঙ্গীত শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
একাধারে তিনি ছিলেন দক্ষ তবলা বাদক, নাট্যশিল্পী ও গীতিকার। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে— “আমরা মেঘনা চরের হোলা, আমরা মেঘনা চরের মাইয়া”, “ও আমার ঘরের শোভা নকশী কাঁথা, মাঠের শোভা ধান” এবং “কেন বাংলাকে ভালোবাসি জানো কি?”।
তাঁর মৃত্যুতে উদীচী নোয়াখালী সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নোয়াখালী, মৌমাছি কচিকাঁচার মেলা, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় তাঁরা বলেন, বিমলেন্দু মজুমদারের প্রজ্ঞা, মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা বিস্তার এবং সংস্কৃতি চর্চায় অবদান নোয়াখালীবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নোয়াখালী পৌর কল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, তিনি ছিলেন বহু মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরির নিপুণ কারিগর ও আদর্শ শিক্ষক।
তাঁর স্নেহ, শাসন ও দিকনির্দেশনা অসংখ্য মানুষের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পারিবারিক জীবনে তিনি হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা সীমা মজুমদারের পিতা। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর বিদায়ে নোয়াখালীর শিক্ষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :