• ঢাকা
  • সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২১ জুন, ২০২৬

কমলনগরের পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মোশারেফ হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাসদের প্রবীণ নেতা ও লক্ষ্মীপুরের রামগতি নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য মোশারেফ হোসেনকে তাঁর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) রাত ১টা ১৫ মিনিটে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

মোশারেফ হোসেন স্ত্রী, তিন পুত্র, তিন পুত্রবধূ, তিন কন্যা, তিন জামাতা এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রোববার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন চত্বরে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পরে সকাল ৭টায় তাঁর মরদেহ জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেওয়া হলে দলীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করে ফুলেল শ্রদ্ধা ও স্যালুটের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বাদ আছর লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার হাইস্কুল মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় নিজ গ্রাম পশ্চিম বালুর চরে তৃতীয় জানাজা শেষে কমলনগরের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় জাসদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।

মোশারেফ হোসেন ষাটের দশকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে জয় বাংলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিএলএফ (মুজিব বাহিনী) রামগতি-হাতিয়া জোনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন এবং জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, প্রচার সম্পাদক, সহ-সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মোশারেফ হোসেন ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল রাজনীতির একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। রাজনৈতিক সততা, আদর্শিক দৃঢ়তা ও নির্লোভ জীবনযাপনের জন্য তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ জননেতাকে হারাল এবং জাসদ হারাল একজন অভিভাবকসুলভ নেতাকে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর