
নুশরাত রুমু, সদর : সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রমিত বাংলা বানান ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলা একাডেমির অভিধান ও বিশ্বকোষ উপবিভাগের সহকারী সম্পাদক রাজীব কুমার সাহা বলেছেন, লেখালেখির সময় সবারই অভিধান সঙ্গে রাখা উচিত। পুরোনো অনেক বানানের পরিবর্তন হয়েছে; তাই সাহিত্য রচনায় প্রমিত রীতি অনুসরণ করলে নতুন প্রজন্ম সঠিক বানান জানতে ও শিখতে পারবে। তিনি ২০১৬ সালে প্রকাশিত বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসরণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার (২০ জুন) মাইজদীর বিআরডিবি হলরুমে বাংলা একাডেমি পাঠক ফোরাম নোয়াখালীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘লেখক-গবেষক কর্মশালা’য় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট গোলাম আকবর এবং সঞ্চালনা করেন কবি ও গবেষক ম. পানা উল্যাহ্ কর্মশালার উদ্বোধন করেন চৌমুহনী কলেজের অধ্যাপক আবুল বাশার। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলার প্রবীণ কবি আখতার জাহান শেলী।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির অভিধান ও বিশ্বকোষ উপবিভাগের সহকারী সম্পাদক রাজীব কুমার সাহা, গবেষণা উপবিভাগের কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী, কবি ও গবেষক ম. পানা উল্যাহ্ এবং ফেনীর লেখক ও দৈনিক এবেলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী।
লেখক ও গবেষক ম. পানা উল্যাহ্ তাঁর ‘কখন কী লিখবেন’ গ্রন্থের আলোকে লেখার প্রকরণগত শুদ্ধতা ও বিরামচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
শামীম পাটোয়ারীর সেশনের মূল বিষয় ছিল ‘প্রকাশনায় স্পষ্টতার (Legibility) গুরুত্ব ও কৌশল’। তিনি লেখক ও গবেষকদের লেখায় প্রকাশনার স্পষ্টতা, নান্দনিক উপস্থাপনা, গ্রিড বিন্যাস, অ্যালাইনমেন্ট এবং ফন্ট ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় মতবিনিময়ে সেশনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শেষ সেশনে বাংলা একাডেমির গবেষণা উপবিভাগের কর্মকর্তা মামুন সিদ্দিকী প্রবন্ধ ও গবেষণার পদ্ধতি, প্রকরণ ও শৈলী নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় উপস্থিত লেখকদের মধ্যে ছিলেন মশিউর রহমান মিঠু, শামা আরজু, এস. এম. জাহাঙ্গীর, মহিউদ্দিন মিলন, মামুনুর রশীদ, সামসুদ্দিন সাহেদ, ফখরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান মোহন, মানিক মজুমদার, শিবপ্রসাদ শূর, অ্যাড. মিজান তালুকদার, নুশরাত রুমু, আহসান উল্লাহ রিপন, আবির ও আকাশ। ফেনী থেকে অংশ নেন কবি সাইফুল আলম, কবি ফজলুল মল্লিক এবং কবি মো. সাহেদ।
দিনব্যাপী এ কর্মশালা বিআরডিবি মিলনায়তনের ছাদে সৌহার্দ্যপূর্ণ আপ্যায়ন ও স্মৃতিচারণমূলক আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :