• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৬ জুলাই, ২০২৬

নোয়াখালী প্রধান ডাকঘরে সেবা নিয়ে অসন্তোষ, পার্সেল সংগ্রহে ভোগান্তির অভিযোগ

নুশরাত রুমু, সিনিয়র প্রতিবেদক : নোয়াখালী প্রধান ডাকঘরের পার্সেল সেবা নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পার্সেল গ্রাহকের কাছে পৌঁছে না দিয়ে নিজে গিয়ে সংগ্রহ করতে হওয়ায় ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।

জেলায় ডাকসেবার ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯০৯ সালের District Gazetteer অনুযায়ী, তখন জেলায় ১টি প্রধান ডাকঘর, ১২টি উপ-ডাকঘর এবং ৪৭টি শাখা ডাকঘর চালু ছিল।

১৮২১ সালে জেলা প্রতিষ্ঠার পর ব্রিটিশ শাসনামলেই বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে ডাকব্যবস্থা গড়ে ওঠে। পরে ১৯৫১ সালে মেঘনা নদীর ভাঙনে পুরান শহর সুধারাম বিলীন হয়ে গেলে প্রধান ডাকঘরটি মাইজদীতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মাইজদী কোর্ট এলাকায় অবস্থিত প্রধান ডাকঘর (পোস্ট কোড: ৩৮০০) থেকে জেলার ডাকসেবা পরিচালিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই ভুক্তভোগী জানান, একটি পার্সেল নির্ধারিত সময়ে তার কাছে পৌঁছানো হয়নি। প্রায় পাঁচ দিন পর ডাকঘরে গিয়ে তিনি নিজেই পার্সেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী বলেন, “পার্সেলটা আসার পরও আমার কাছে ডেলিভারি দেয়নি অথবা ফোন করেও জানায়নি । পরে আমি নিজে গিয়ে পাঁচ দিন পর পার্সেলটা নিতে হয়েছে।”

আরেকজন ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত সময়ের পরে পার্সেল জমা দিতে গেলে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। এতে তাকে পুনরায় ফিরে যেতে হয়, যা তার জন্য ভোগান্তির কারণ হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “একদিন পার্সেল নিয়ে গেছি ১০টার পর, ওরা আমার থেকে পার্সেল নেয় নাই। আমাকে আবার মাইজদী থেকে কবিরহাট ফিরে যেতে হয়েছে।”

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মন্তব্যে বলেন, আগে ডাকসেবাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে চিঠি আদান–প্রদানের আবেগ ও আস্থা ছিল। তবে বর্তমানে সেবার গতি ও কার্যকারিতা আগের তুলনায় কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং আধুনিকায়নের প্রয়োজনের কথা বলেন।

অন্যদিকে ডাকঘর সংশ্লিষ্টরা জানান, নোয়াখালী প্রধান ডাকঘরে নিয়ম অনুযায়ী ৬ জন পিয়নের পদ থাকলেও বর্তমানে ২ জন দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে সেবা কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও জানান, জরুরি সরকারি চিঠি ও গুরুত্বপূর্ণ ডাক বিতরণে অগ্রাধিকার দেওয়ায় কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে, যার প্রভাব অন্যান্য পার্সেল সেবায় পড়তে পারে।

এদিকে গ্রাহকরা সেবার মান উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সময়ানুগ ডাকসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর