প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৬ আগস্ট, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে ৪শ মানুষের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার : প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, জলাশয় ও স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রায় ৪০০ মানুষের অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (UNIDO)-এর যৌথ উদ্যোগে “Integrated Approach Towards Sustainable Plastics Use and Marine Litter Prevention in Bangladesh” প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। UNIDO-এর কারিগরি সহায়তা ও নরওয়ে সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, BD Clean-এর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলার উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি।

অনুষ্ঠানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ও উপপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, UNIDO Bangladesh-এর ন্যাশনাল এক্সপার্ট জুবায়ের বিন আরাফাত, কোম্পানীগঞ্জের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য মো. নুরুল আলম সিকদার, পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মতিন লিটন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল হাকিম এবং BD Clean-এর প্রতিনিধি মো. সাখাওয়াত হোসেন নিশাদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ড. আবদুল্লাহ আল মামুন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তিনি প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

UNIDO Bangladesh-এর ন্যাশনাল এক্সপার্ট জুবায়ের বিন আরাফাত প্রকল্পের কার্যক্রম ও কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে শুরু করে সংগ্রহ, পুনঃব্যবহার, পুনর্ব্যবহার এবং চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনা—পুরো জীবনচক্রে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ সময় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়োমেডিকেল বর্জ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। তিনি প্লাস্টিক দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে প্লাস্টিকের বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্য উদ্ভাবন ও ব্যবহারে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পরিবেশ সুরক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোসাম্মৎ শওকত আরা কোলি প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। স্থানীয় অংশীজনদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক প্রতিনিধিরা স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন কোম্পানীগঞ্জ গড়ে তুলতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্লাস্টিক দূষণকে শুধু পরিচ্ছন্নতার সমস্যা হিসেবে না দেখে খাল, নদী, কৃষিজমি, জলাশয়, উপকূলীয় অঞ্চল ও সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি যত্রতত্র ময়লা ও প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলা এবং খাল-জলাশয়কে বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তাঁর নেতৃত্বে বসুরহাট বাজারসংলগ্ন বসুরহাট খালে বৃহৎ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। এতে প্রায় ৪শ অংশগ্রহণকারী খাল ও আশপাশের এলাকা থেকে প্লাস্টিক, পলিথিন, প্যাকেজিং বর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা অপসারণ করেন। একই সঙ্গে বাজারের বর্জ্য যাতে খাল, ড্রেন ও জলাশয়ে না যায়, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার শপথ নেন এবং প্লাস্টিক দূষণ কমানো, যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা ও উপকূলীয়-সামুদ্রিক প্রতিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন। অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিরা ‘পরিচ্ছন্ন ও প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশের জন্য অঙ্গীকার বোর্ডে’ স্বাক্ষর করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান এ কর্মসূচির চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়; বরং প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মানুষের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রায় ৪শ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি কোম্পানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর