প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩০ আগস্ট, ২০২৬

স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজু ফিরলেন লাশ হয়ে, মায়ের পাশেই দাফন

স্টাফ রিপোর্টার : প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ঋণ করে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন সোনাইমুড়ীর ইউসুফ রাজু। লক্ষ্য ছিল পরিবারের ঋণের বোঝা কমানো এবং স্ত্রী-সন্তানদের নিজের কাছে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত নিথর দেহে দেশে ফিরলেন তিনি। দাফন করা হয়েছে মায়ের কবরের পাশে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজুর মরদেহ সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় জমান আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে উন্নত জীবনের আশায় প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ঋণ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান রাজু। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি। দেশে থাকা বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে ছিল তার অনেক স্বপ্ন। কিন্তু একটি মর্মান্তিক ঘটনায় সব স্বপ্ন থেমে যায়।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে ২২ আগস্ট বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ইউসুফ রাজু। ঘটনার পর থেকে পরিবার ও স্বজনরা মরদেহ দেশে আনার জন্য বিভিন্ন দপ্তর ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা কামনা করেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রোববার তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর সেখানে শোকের মাতম শুরু হয়। রাজুর স্ত্রী বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দুই কন্যা সন্তান বাবার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্বজনদের অনেকেই এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাদের কান্নায় উপস্থিত মানুষের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, রাজু ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র ও পরিশ্রমী একজন মানুষ। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে স্বজনদের কান্নায় পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারটির জন্য সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনেরও দাবি জানান তারা।

জসিম উদ্দিন নামের রাজুর এক স্বজন বলেন, অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিল। পরিবারের জন্য অনেক স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরে আসবে, এটা কখনো ভাবিনি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

জাহাঙ্গীর আলম নামের আরেক আত্মীয় বলেন, পরিবারটি এখন একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। ছোট দুটি মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আক্তার বলেন, বিদেশে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু বেদনাদায়ক। রাজুর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর