
স্টাফ রিপোর্টার : ভুল চিকিৎসায় অনেক আগেই এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন মো. রাসেল। এবার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না পেলে অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তিও হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে রাসেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল ইকবালসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। নিজেদের পাঁচ দিনের বেতনের অর্থ অনুদান হিসেবে দিয়ে রাসেলের চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তার হাতে তুলে দিয়েছেন এক লাখ টাকা।
রাসেল নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা আশ্রয়ণে বসবাস করেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে তার সংসার। অভাব-অনটনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই মানুষটির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজের অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা। এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর অন্য চোখটিও হারানোর আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তার পরিবারের সদস্যদের।
রাসেলের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন ইউএনও মো. রাসেল ইকবালসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের পাঁচ দিনের বেতনের অর্থ অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে উপস্থিত অন্যরাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাসেলের চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য তার হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এই আর্থিক সহায়তা তার চিকিৎসা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অর্থের অভাবে যে চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, এই অনুদান তা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
রাসেলের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মকর্তাদের এমন মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে না ফেলেন, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ওহাব বলেন, ‘অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে না ফেলেন, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তারা এগিয়ে এলে রাসেলের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব। হাতিয়ার ইউএনওসহ কর্মকর্তারা এই মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন, মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অর্থের অভাবে একজন মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারাবেন, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে! রাসেলের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মকর্তারা যে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা চাই, রাসেলের চিকিৎসা সফল হোক এবং তার চোখে আবারও পৃথিবীর আলো ফিরে আসুক।’
সহায়তা পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন রাসেল। উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে অবশিষ্ট দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে চান তিনি। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারার যে দুশ্চিন্তা ছিল, কর্মকর্তাদের এই সহযোগিতায় তা কিছুটা হলেও কমেছে।
সহায়তাপ্রাপ্ত মো. রাসেল বলেন, ‘এক চোখের দৃষ্টিশক্তি আগেই হারিয়েছি। এখন অন্য চোখটি নিয়েও খুব দুশ্চিন্তায় আছি। অভাবের সংসারে এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ইউএনও স্যারসহ কর্মকর্তারা আমার পাশে দাঁড়িয়ে যে সহযোগিতা করেছেন, তাতে নতুন করে বাঁচার আশা পেয়েছি। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন চিকিৎসার মাধ্যমে আমার চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে পারি এবং সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে জীবনটা কাটাতে পারি।’
এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল ইকবাল বলেন, ‘রাসেলের অসহায়ত্ব ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা জানতে পেরে আমরা তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষের বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সামান্য সহযোগিতায় যদি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় এবং তিনি দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করার সুযোগ পান, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এ ধরনের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।’
আপনার মতামত লিখুন :