
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :: সোনাইমুড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গিয়াস উদ্দিন (৪৮) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে নাটেশ্বর বড় হাজী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত গিয়াস উদ্দিন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত বিবাদীরা হলেন একই বাড়ির মো. সোহাগ (৩০), মো. সবুজ (২৮), মো. বাবু (৩৫), আব্দুর রহিম (৪১), মো. আহাদ (৩৫), সোলেমান (৩২), শাহিনুর আক্তার (৪০) ও রহিমা বেগম (৬০)। তাঁরা সবাই নাটেশ্বর বড় হাজী বাড়ীর বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিবাদীদের সাথে বাদীর পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে গিয়াস উদ্দিনের জমির সীমানার পিলার তুলে ফেলে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে সোহাগ ও তাঁর সঙ্গীরা দলবদ্ধ হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র যেমন দা, ছেনি, লোহার রড ও লাঠি-সোটা নিয়ে বাদীর স্বামী ও স্বজনদের ওপর চড়াও হন।
আক্রমণকারীরা গিয়াস উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপ ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর গলায় থাকা ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
এসব অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হলে বিবাদী আকরাম হোসেন বাবু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, তাঁদের জমিতে থাকা গাছ গিয়াস উদ্দিন কেটে নিয়ে গেছেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এছাড়া মামলার বিষয়টি তিনি অবগত আছেন বলেও জানান।
সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :