প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ নভেম্বর, ২০২৬

মাইজদীতে ফিস্টুলামুক্ত জেলা গড়তে মাসব্যাপী রোগী অনুসন্ধান কার্যক্রম

আবু জাফর মোহাম্মাদ আলী জনী, স্টাফ রিপোর্টার :: প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগ নির্মূলে জেলার সব উপজেলায় মাসব্যাপী বিশেষ রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সম্ভাব্য রোগীদের খুঁজে বের করে চিকিৎসার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে একটি অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার প্রতিটি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ‘ফিস্টুলা নির্মূলকরণ কার্যক্রম-২০৩০’ বাস্তবায়নে নোয়াখালীতে কারিগরি সহযোগিতা করছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) ও সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

অ্যাডভোকেসি সভায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য দেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

ডা. পপি রানী কুন্ডুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি কনসালট্যান্ট, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রসবজনিত ফিস্টুলার চিকিৎসা ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সভায় একটি মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সিআইপিআরবির প্রকল্প সমন্বয়ক মো. আলতাফুর রহমান। এতে রোগটির উৎপত্তির কারণ, উপসর্গ, শনাক্তকরণ পদ্ধতি, চিকিৎসার জন্য রেফারেল এবং রোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলাকে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বাড়িতে প্রসবের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সম্ভাব্য ফিস্টুলা রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ কাজে কমিউনিটি নেটওয়ার্কের সহযোগিতাও নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন রোগীদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পরে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা-পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন বিবেচনায় দরিদ্র রোগীদের পুনর্বাসনেও সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর