
অ্যালার্জি কী এবং কেন হয়?
আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) সাধারণত ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। কিন্তু কখনো কখনো এটি নিরীহ কিছু (যেমন খাবার, ধুলা বা পরাগ) ভুল করে শত্রু মনে করে। তখনই শরীরে লাল চাকা, চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি দেখা দেয়—এটাই অ্যালার্জি।
অ্যালার্জির সাধারণ কারণ
অ্যালার্জি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক কারণে হতে পারে। সাধারণ কিছু ট্রিগার হলো:
নির্দিষ্ট খাবার (যেমন: বেগুন, চিংড়ি, বাদাম, ডিম, দুধ)
ডাস্ট মাইট (বিছানা, কার্পেটে থাকা ক্ষুদ্র পোকা)
পরাগ রেণু (ঋতুভেদে বাড়ে)
ছত্রাক (স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে)
পশুপাখির লোম বা পালক
সাবান, শ্যাম্পু, ডিটারজেন্ট, পারফিউম
ধাতব গয়না বা ঘড়ি
কিছু ওষুধ (যেমন পেনিসিলিন)
অতিরিক্ত গরম, ঘাম বা ঠাণ্ডা
প্রতিরোধের উপায় (সবচেয়ে কার্যকর)
যে জিনিসে অ্যালার্জি হয়, তা এড়িয়ে চলুন
নিয়মিত বিছানার চাদর, কাঁথা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলুন
ঘর পরিষ্কার রাখুন, ধুলাবালি কমান
স্যাঁতসেঁতে জায়গা এড়িয়ে চলুন
বাইরে থেকে এসে গোসল ও কাপড় পরিবর্তন করুন (পরাগ রেণু থাকলে)
ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
অ্যালার্জি হলে কী করবেন?
অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ (চিকিৎসকের পরামর্শে)
ঠাণ্ডা সেক (বরফ পেঁচিয়ে)
কালামাইন লোশন বা ময়েশ্চারাইজার
নাক বন্ধ হলে ডিকনজেস্ট্যান্ট স্প্রে
চোখ চুলকালে আই ড্রপ
মানসিক চাপ কমানো (ব্যায়াম, শ্বাসের ব্যায়াম)
স্টেরয়েড ওষুধ কখনোই নিজে নিজে খাবেন না—এটি বিপজ্জনক হতে পারে।
প্রাণঘাতী অ্যালার্জির লক্ষণ (জরুরি অবস্থা)
নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে:
শ্বাসকষ্ট বা শোঁ শোঁ শব্দ
মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা ফুলে যাওয়া
বুক ধড়ফড়
বমি, পেট ব্যথা
গায়ে চাকা ও তীব্র চুলকানি
এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যানাফাইল্যাক্সিস—সময়মতো চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
নিজের অ্যালার্জির কারণ খুঁজে বের করা সবচেয়ে জরুরি
প্রয়োজনে অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
দীর্ঘমেয়াদে ইমিউনোথেরাপি (অ্যালার্জি ভ্যাক্সিন) কার্যকর হতে পারে
আপনার মতামত লিখুন :