• ঢাকা
  • সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৭ জুন, ২০২৬

এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

নুশরাত রুমু, সদর : এফসিপিএস ট্রেনিং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল থেকে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ব্যানারে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের প্রতিনিধি ডা. মোহাম্মদ নুরুল আলম লিটন এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডা. তুহিন সারোয়ার দিপু, ডা. সুমাইয়া জেমি, ডা. তানজিদা ইসলাম, ডা. তন্ময় শীলসহ অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

স্মারকলিপিতে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গৃহীত সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের প্রতি বৈষম্যমূলক এবং চিকিৎসা পেশার মর্যাদার পরিপন্থী। বিশেষ করে এফসিপিএস প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে তারা মনে করেন। এ কারণে সিদ্ধান্তটি বাতিলসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির বিকল্প নেই। অথচ প্রশিক্ষণব্যবস্থাকে সীমিত করে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে চিকিৎসা খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবাখাতে চাপ বেড়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ওয়ার্ডভিত্তিক রোগী পর্যবেক্ষণ, নিয়মিত ফলোআপ, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুতকরণ এবং রোগীদের সার্বক্ষণিক তদারকির কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সিনিয়র চিকিৎসক ও দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে। রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও সেবা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রাখছেন।

চিকিৎসকদের মতে, তাদের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর