• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ জুন, ২০২৬

নকআউটের লড়াইয়ে ইকুয়েডরের সামনে জার্মানি

বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপে শেষ রাউন্ডের ম্যাচগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। টানা জয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেছে জার্মানি। তবে ইকুয়েডরের জন্য শুক্রবার রাত ২টার ম্যাচটি হয়ে উঠেছে টিকে থাকার লড়াই।

গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচে কিছু পরিবর্তন আনার সুযোগ পাচ্ছেন জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। তবু দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো ঘাটতি নেই। স্ট্রাইকার জেমি লেভেলিং জানিয়েছেন, ইকুয়েডরের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙার উপায় তাদের জানা আছে।

স্টুটগার্টের এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ। তবে যারা এখনো খুব বেশি সুযোগ পায়নি, তারা মাঠে নামলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। গোল করার পথ আমরা খুঁজে নিতে পারব।”

অন্যদিকে, ইকুয়েডর গোলখরায় ভুগছে। টানা ২০৩ মিনিট ধরে কোনো গোল করতে পারেনি দলটি। এমন পরিস্থিতিতে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া। ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড অতীতের মতো এবারও দলের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন সতীর্থরা।

ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপি ভ্যালেন্সিয়াকে ‘সুপারম্যান’ বলে উল্লেখ করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার হেড থেকে আসা গোলই বহুবার দলকে সাফল্য এনে দিয়েছে।

জার্মানির আক্রমণভাগও রয়েছে দুর্দান্ত ছন্দে। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেছেন ডেনিস উন্দাভ। চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা এখন তিন। এ ক্ষেত্রে তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল আরলিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসি।

তবে জার্মান শিবিরে একটি দুঃসংবাদও আছে। গোড়ালির চোটে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার নিকো শ্লোটারবেক। এদিকে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার ১২৬তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৮ ম্যাচে মাত্র ৫ গোল হজম করেছিল ইকুয়েডর, যা ছিল দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের অন্যতম সেরা রক্ষণভাগের রেকর্ড। কিন্তু মূল আসরে এসে সেই দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেনি দলটি।

কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে খেলছে ইকুয়েডর। ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে এনার ভ্যালেন্সিয়ার পারফরম্যান্স ছিল দলের অন্যতম শক্তি। তবে এবার গোলের দেখা পেতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে ‘লা ত্রি’কে।

অনেকের ধারণা, নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় জার্মানি হয়তো এই ম্যাচে দ্বিতীয় সারির কয়েকজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে তিনের বেশি প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) তৈরি করেছিল ইকুয়েডর, যা তাদের আক্রমণভাগের সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।

তাই ভ্যালেন্সিয়া যদি ছন্দে ফিরতে পারেন এবং জার্মানির রক্ষণ কিছুটা শিথিল থাকে, তাহলে ইকুয়েডরের পক্ষে অঘটন ঘটানো অসম্ভব নয়। নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এখন মাঠের লড়াইয়েই উত্তর খুঁজবে তারা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর