
নোয়াখালীর কথা ডেস্ক : জেলাতে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যায় ৯ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলা আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৮৭টি ইউনিয়ন ও ৭টি পৌরসভার ১৯ লাখ ৮১ হাজার ৭০০ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। জেলায় ১ হাজার ৯৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে ১ লাখ ৮২ হাজার ৩০৯ জনকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
এ পর্যন্ত সরকারিভাবে নগদ ৪৫ লাখ টাকা, ৮৮২ মেট্রিক টন চাল ও ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এখনও ৯১৮ মেট্রিক টন চাল মজুদ রয়েছে। ৮৮টি মেডিকেল টিম বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছে।
বেগমগঞ্জে সাবেক এমপি মামুনুর রশীদ কিরণের গ্লোব বিস্কুট ফ্যাক্টরির কর্মচারীরা ৩ মাস যাবৎ বেতন বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ত্রাণ না দিক অন্তত বকেয়া বেতন দিক। যাতে করে আমরা ছেলেমেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি।’
মারা যাওয়াদের দাফন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিটি কবর এখন পানির নিচে।
জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে বন্যার পানি বেড়েছে।সোমবার (২৬ আগস্ট) রাত ৩টা থেকে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১০ টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে থাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গত তিন দিনে নোয়াখালীতে ৮৩ জনকে সাপে কেটেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সাপে কেটেছে ৩৫ জনকে।
বন্যার কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১০৮ জন। এই পর্যন্ত সরকারের ৪ জন উপদেষ্টা জেলা সফর করে স্থানীয় প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নৌকা ও স্বেচ্ছাসেবকদের সুরক্ষায় লাইফ জ্যাকেট প্রয়োজন বলে জানা গেছে
আপনার মতামত লিখুন :