প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২৪

সোনাইমুড়ীতে কাঁচা বাজারে আগুন থামেনি এখনও, সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী

উপজেলা প্রতিনিধি, সোনাইমুড়ী : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না কিছুতেই। একটি পণ্যের দাম কমলে অন্যটির বাড়ে কয়েক গুণ। কাঁচাবাজার নিয়ে এমনটাই অভিযোগ ভোক্তাদের। হেমন্তকালে বাজারজুড়ে দেখা মিলছে শাক-সবজি। সবজি বাজারের সব ধরনের শাক-সবজির দেখা মিললেও গত কয়েকদিন ধরে এসবের দাম নাগালের বাইরে। কাঁচা মরিচের বাজার ঊর্ধ্বমুখী এবং এর সঙ্গে অন্যান্য শাক-সবজির দামও চড়া। হঠাৎ করে সব শাক-সবজির দাম এতোটা বেড়েছে যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

আর বইলেন না ভাই, কি আর বলবো? দিনদিন বাজারের যা অবস্থা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে না খেয়েই দিন কাটাতে হবে। কিন্তু না খেয়ে কি থাকা যায় বলেন? বাচ্চাগুলারে কতদিন মাংস খাওয়াইতে পারি না। এখন সবজির দামও যা বেড়েছে, যেটাই কিনতে যাই সেটারই দাম বেশি। যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোভাবে দিন পার করছি। জানিনা, সামনে কিভাবে চলবো?’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সবজি কিনতে আসা আবু সাঈদ খোকন।এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার সোনাইমুড়ী পৌর বাজারে বেশ কয়েকটি সবজির বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৬০ টাকা এবং ধনিয়া পাতা ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সোনাইমুড়ি পৌর বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, ‘গত দুই দিন আগে কাঁচা মরিচের মানভেদে ২০০-২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি।কিন্তু এখন আমাদের পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।’

মো.হাসান নামে আরেক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘আমরা চৌমুহনী পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনি। ওইখানেই দাম অনেক বেশি।পাইকারিতে দাম না কমলে আমগো হাতে কিছু নাই।’হঠাৎ দাম বৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন অনেক সাধারণ মানুষ। সবজি বাজারে বাজার করতে আসা সোনাইমুড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিন নামে এক ক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আড়াই গ্রাম কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা! চিন্তা করা যায়? সব কিছুর দাম বাড়তি। এইভাবে দেশ চলে নাকি?’সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শুধু কাঁচামরিচ নয়, সব ধরনের সবজির দামই চড়া। একমাত্র পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।বাজারে এই পেঁপে আকারভেদে এই পেঁপেই বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সব সবজির দাম ১০০টাকার বেশি।১ কেজি সিমের দাম ২৫০ টাকা ।

বাজারে প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা দরে। শশার কেজি ৮০টাকা, লতি ৭০-৮০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স ৬০ টাকা কেজি, পটল ৮০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, করল্লা ৮০ টাকা, উস্তা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা। এবিষয় চৌমনী বাজারের কাঁচা বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশি দামে আমাদের আড়তে সব ধরনের সবজি কিনতে হচ্ছে। এজন্য খুচরা বিক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে শিগগিরই দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।’সোনাইমুড়ি বাজারে বণিক সমিতির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন , ‘কোনো দোকানদার ইচ্ছামতো বেশিতে কোনো পন্য বিক্রি করতে পারবে না। এজন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন এবং করব । বেশিতে পন্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোনটি রিসিভ করা হয়নি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর