
স্টাফ রিপোর্টার :জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবেলায় ক্ষয়ক্ষতি পূরণ তহবিল গঠনে ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা কমপক্ষে ৪শ বিলিয়নে উন্নিত করার সুস্পস্ট লক্ষ্য ঘোষণা করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। রোববার ১০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এসডিজি এ্যাকশন অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ আয়োজিত জাতিসংঘের পরিবেশ শীর্ষ সম্মেলন-পূর্ব নাগরিক সংলাপে তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসডিজি এ্যাকশন অ্যালায়েন্সের ক্যাম্পইন ম্যানেজার আব্দুল মান্নান আকন এবং ক্যাম্পেইন অফিসার বিবি মরিয়ম। এসময় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাসিনের নির্বাহী পরিচালক আসমা আক্তার মুক্তা, এসডিজি এ্যাকশন অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ এর জাতীয় সমন্বয়কারী ও এনআরডির নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল, এডাব’র পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবেলায় গঠিত “লস এন্ড ড্যামেজ ফান্ড” নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহে ঘাটতি একটা প্রধান চ্যলেঞ্জ। ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তহবিল সৃষ্টি হলেও এটির কার্যক্রম পরিচালনা, অর্থায়ন ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে নানান প্রশ্ন রয়ে গেছে। তহবিলে বর্তমানে ৭৭০.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুঞ্জীভূত হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তারা বলেন, ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ বিবেচনায় বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ১০০
বিলিয়ন অপ্রতুল। তাই ২০২৫ সনে লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ বিলিয়নে উন্নিত করার সুস্পস্ট ঘোষনা এবং পরবর্তী বছরগুলোতে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০৩০ সালে ১ ট্রিলিয়নে উন্নিত করা দরকার। এজন্য অবশ্যপালনীয় দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষনায় থাকতে হবে। যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তার পরিপূর্ণ ক্ষতিপূরণ করা সহ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য নাগরিক সমাজ দাবী করছে, বিশেষত: এই তহবিল অবশ্যই জীবন ও উন্নয়নের অধিকার ও বিপদাপন্ন জনসম্প্রদায়ের অগ্রাধীকারের ভিত্তিতে একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার সুযোগ গ্রহণ করবে যা সম্পূর্ণ অবস্থাটাই পাল্টে দেবে যা হবে প্রকৃত সিস্টেম চেইঞ্জ।
নাগরিক সমাজ মনে করে আসন্ন জাতিসংঘের পরিবেশ সম্মেলন শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমানকালের সমস্যা মোকাবেলার জন্য নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যতের পৃথিবী বসবাস উপযোগী রাখার জন্য। কোনভাবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার এড়িয়ে কর্পোরেট তোষণ নীতি গ্রহণ করতে দেয়া যাবে না। প্রয়োজন বিজ্ঞানের সাথে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি মিলিয়ে দেখা, পর্যাপ্ত মানবাধিকার-ভিত্তিক সম্পদ সংগ্রহের সাথে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি সমর্থন করা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসমভাবে
ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার পূরণ করা ও জনগণের অংশগ্রহণের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমাবেশের জন্য দাঁড়ানো। পরিবেশ সুবিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার, পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনসমূহের যৌথ আলাপ ও কার্যকর একটি জাতীয় পরিবেশ কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্যও একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
এসময় তারা আরও কয়েকটি সুপারিশের কথা উল্লখ করেন। সুপারিশগুলো হলো-জলবায়ু তহবিলে বিপদাপন্ন জনগোষ্ঠীর সরাসরি অভিগম্যতার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসম্প্রদায়ের নেতৃত্বে ও অংশগ্রহণে স্থানীয় নেতৃত্বে পরিচালিত প্রকল্পে, স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অভিযোজন ও পরিবেশ বান্ধব জীবন জীবিকা অর্জনে সহায়তা করতে হবে; জাতীয় পরিবেশ কর্মপরিকল্পনায় কমিউনিটি রেজলিয়েন্স অগ্রাধীকার দিয়ে কর্মউদ্যোগ নিতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আদিবাসী ও বিশেষ
চাহিদা সম্পন্ন মানুষের জীবনযাত্রা, গৃহায়ন, খাদ্য নিরাপত্বা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় পরিবেশ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে; জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষকে পরিবেশ শরণার্থী হিসেবে জলবায়ু তহবিলের মাধ্যমে বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসুচীর আওতায় আনার জন্য বৈশ্বিক সংহতি কাজে লাগাতে হবে; পরিবেশ দূষনকারী ধনী
দেশসমূহের ঐতিহাসিক ও পরিবেশ দেনা পরিশোধে চাপ দিতে সরকারী উদ্যোগকে সহায়তা ও নাগরিক সমাজের বৈশ্বিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :