প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

বিজ্ঞাপন : মিডিয়া সাম্রাজ্যবাদের নয়া সন্ত্রাস – প্রত্যয় জসীম

আমরা বিজ্ঞাপন বাজারের অসহায় ক্রেতা
বর্তমান যুগকে বলা হয় ‘তথ্য বিপ্লবের যুগ’ অথবা ‘ডিজিটাল’ যুগ। ডিজিটাল যুগের এখনো পরিপূর্ণ বিকাশ হয়নি ভুবনজুড়ে। আমরা জানি আঠারশ শতকের শেষার্ধে শিল্পবিপ্লবের যে ধারা সূচিত হয়েছিল তারই প্রবাহমানতায় আসে মেকানিক্যাল যুগ, ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল যুগ, ইলেকট্রিক্যাল যুগ এবং সর্বশেষ হলো ডিজিটাল যুগ। অথবা তথ্যবিপ্লবের যুগ।

ডিজিটাল যুগে এসে বিশ্বের নাগরিকরা এখন একটি কম্পিউটার যোগাযোগ ও একটি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে পড়েছে। গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়নের নামে ভুবনজুড়ে ‘একই বাজারের’ বাসিন্দা হয়ে পড়ছে পৃথিবীর মানুষেরা। একটি কর্পোরেট সুপার মার্কেটে বসবাস করছি আমরা। পুঁজির দাপটে বিশ্বসমাজের এই বিবর্তন অনাদিকালের গবেষকগণ, কতটা আঁচ করতে পারবেন সময়ই তা বলতে পারবে। যুগটা ডিজিটাল বলেছিলাম এ লেখার প্রারম্ভে। একটু খোলাসা করে বললে, বলতে হয় যুগটা বিজ্ঞাপনের। বিজ্ঞাপনের এবং কর্পোরেট বাণিজ্যেরও বটে।

আমরা কি বধির ও অন্ধ হয়ে যাবো!
প্রয়োজন নেই। ভোক্তার সামর্থ্য নেই। এমনকি ভোক্তার আগ্রহও নেই। তবুও তার আগ্রহ তৈরি এবং কৌশলে ফাঁদে ফেলে পণ্যটা তার হাতে তুলে দিলেই হলো। পুঁজির নিয়মে পুঁজি চলে যাবে যথাযথ জায়গায়। মহামতি মহান কার্লমার্ক্স আপনাকে এ যুগে জন্মালে কর্পোরেট বাণিজ্য ও বিজ্ঞাপন-সন্ত্রাস নিয়ে ঢাউস একটি বই লিখতেই হতো। পত্রিকা, টিভি, ইন্টারনেট, সদররাস্তা, শহরের দেয়াল, যেখানে চোখ রাখবেন দেখবেন কেবল বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন এবং বিজ্ঞাপন। চোখ বন্ধ করুন। শুনতে থাকুন এফএম রেডিও এবং শুনতে থাকুন বিজ্ঞাপনের মনভোলানো জিঙ্গেল বা কথামালা।

অনাগত সময়ে কী আমরা বধির হয়ে যাব? এ্যাত বিজ্ঞাপনকাহিনী শুনতে শুনতে? মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে এবং শুনতে শুনতে। টেলিভিশন কি আমাদের চোখের জ্যোতি খেয়ে ফেলবে? এমন দিন আসবে হয়তো জনহিতৈষী কোনো এনজিও বলবে,—টিভি কম দেখুন, মোবাইলে কথা কম বলুন, কম শুনুন।’

বিজ্ঞাপনে বস্তির ছেলেও সুপার হিরো
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত আমরা বাস করছি বিজ্ঞাপনের যুগে। বহুদূর দেশের বস্তি (স্লাম) থেকে জন্ম নেয়া ফুটবলার ম্যারাডোনা যার নাম এ দেশের মানুষের মুখে মুখে। বহু মানুষ তার ভীষণ ভক্ত। মিডিয়া এবং বিজ্ঞাপনের কল্যাণে আমরা তার নামটা জানি। অথচ ম্যারাডোনা বাংলাদেশই চিনে না। বাংলাদেশের নামটাও শোনেনি। না শোনারই কথা! একমুখি তথ্য-এককেন্দ্রিক প্রচারণা ও মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের বিপদটা এখানেই। জাতিক চেতনা নেই—বহুজাতিক আগ্রাসন আছে, এবং তা বেশ পাকাপোক্ত ভাবেই আছে।

গ্লোবাল সুপার মার্কেট
কয়দিন আগে নোয়াখালী গিয়েছিলাম। মাইজদী সদর থেকে বহুদূরের থানার হাট। থানার হাটের সবগুলি চা-দোকানে দেখলাম বিভিন্ন শহুরে পণ্যের মজুদ। কোমল পানীয় প্রায় দোকানে আছে। চা খাওয়ার নিমিত্তে এক দোকানে ঢুকলাম। আমরা ছাড়া দোকানের অন্যসব লোকেরা স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক, বর্গাচাষি, মৎস্যজীবী ও ক্ষুদে ব্যবসায়ী। জামা-কাপড়ের দিকে লক্ষ করলাম লুঙ্গি এবং গেঞ্জিই বেশি। কারো কারো গায়ে কমদামি শার্ট আছে। জ্যৈষ্ঠের গরম তাই ‘কোকাকোলা’ পানের অনুরোধ এলো। আমি ‘কোকাকোলা’ খাই না শুনে অবাক হলো অনেকেই। আমি বললাম, আমার কাছে গাছের ডাবই প্রিয়।
গ্রামের প্রান্তিক কৃষকের কাছে তো গাছের ডাবই উৎকৃষ্ট পানীয়। তাদের কাছে বহুজাতিক কোম্পানির কোমল পানীয় পৌঁছে দেয়া হয়েছে, প্রতি মুহূর্তে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে—‘কোকাকোলা খাও’। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের এক নিঃস্ব কৃষকের সামান্য টাকাও বেনিয়ারা লুটে নিচ্ছে। কর্পোরেট বাণিজ্যওয়ালারা কেবল বোঝে মুনাফা এবং মুনাফা। মানবিকতা ও মানবকল্যাণ ওদের কাজ নয়। ওরা পুরো বিশ্বটাকে একটা গ্লোবাল সুপার মার্কেটে পরিণত করতে চায়। কর্পোরেট বিজ্ঞাপনের ভাষায় ‘মানুষ’ হচ্ছে ‘কনজ্যুমার’ বা ‘ভোক্তা’। মানুষ আর মানুষ থাকছে না… হায় বিশ্বায়ন!

বিটিসি’র বৃক্ষরোপণ : এ যেন গরু মেরে জুতা দান
কর্পোরেট কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা বা ঈঝজ বলে একটা প্রথা চালু হয়েছে। সমাজকল্যাণে ওরা কিছু টাকা কড়ি খরচ করে। বাংলাদেশে কর্মরত ব্রিটিশ ট্যোবাকো কোম্পানি প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ করে। ওরা প্রতি বছর তামাক প্রক্রিয়াজাত করতে যে পরিমাণ বৃক্ষ পোড়ায় তার সিকিভাগ বৃক্ষও রোপণ করে না। অথচ তারা লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দেয়—ওরা বৃক্ষরোপণ করছে—বাংলাদেশকে সবুজে ভরে দিচ্ছে। বিজ্ঞাপনের দাপটে মিডিয়া প্রকৃত সত্যটা কখনোই প্রকাশ করে না। ব্রিটিশ ট্যোবাকো কোম্পানির বৃক্ষরোপণের বিজ্ঞাপন দেখে আমার মনে পড়ে সেই কথা এ যেন—‘গরু মেরে জুতা দান’।
সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের দায়িত্ব কার?

ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন’কে পবিত্র ঈদের দিন ফাঁসি দেওয়া, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি’কে হত্যার পর বিশ্বজুড়ে মানুষের সম্মতি আদায় করে নেয় মিডিয়া। অন্যায় কিংবা মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডও বৈধতার জামা পরে নেয় অকস্মাৎ। জনসমাজে প্রশ্ন-করা, ‘স্বাভাবিক সন্দেহ প্রবণতা’, প্রচারিত বক্তব্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখার যে তাগিদ নাগরিক জীবনে থাকা প্রয়োজন, তা আর থাকে না। মিডিয়া বলছে সুতরাং এটি বাইবেলের চেয়ে সত্য, এমন ধারণা জনসমাজে অঙ্গীকৃত হয় খুব সহজেই। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে গণহত্যাও বৈধতা পেয়েছিল মিডিয়ার কল্যাণে। সমকালে ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনে গণহত্যাও পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় মিডিয়া গুলো একরকমের কবুল করে নিয়েছে। তাদের ভাষ্য যেন এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপনের আধিপত্যবাদ
মিডিয়া বাণিজ্যিকিকরণ ও পণ্যায়নের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এমন এক বিজ্ঞাপন-সংস্কৃতি যা পুরো সমাজ, সামাজিক চেতনা, মূল্যবোধ, সামাজিক সম্পর্ক ও সমাজের অধিবাসীদের সত্তাকে পণ্যে পরিণত করছে বলে একালের সমাজতাত্তি¡ক ও মিডিয়া-বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদের অনেকেই মনে করছেন বিজ্ঞাপন একটা নয়া ‘ধর্মের’ জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে।

কয়েকবছর আগেও ভারতীয় মিডিয়ায় পেপসির বিজ্ঞাপন ছিল,—‘এ দিল মাঙ্গে মোর’। এখানে হিন্দী-বাংলা মিলিয়ে জিঙ্গেল তৈরি করা হয়েছে। ‘পণ্যই সুখ দিবে’, ‘সুখ দিতে পারে’, এ ধরনের ভোগবাদী ধারণা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সমাজে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন এক ধরনের মানসিক প্রবণতা তৈরি করে। টিনএজাররা ‘ডোন্ট কেয়ার’ মনোভাবের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিজ্ঞাপন কখনো মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানের দিকনির্দেশ করে না। দায়বদ্ধতাহীন পণ্যসর্বস্ব বিজ্ঞাপনের চাপে বিকল্প মত প্রকাশের সুযোগ থাকে খুবই কম। বিকল্পের দিকে মনোযোগ না দিলে সেটি একটা সমস্যা হিসেবে অচিরেই আত্মপ্রকাশ করবে। সমস্যার সমাধানের চেয়ে সমস্যা যেন না হয় সেদিকে নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন বিষয়ক ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ
বলা হয় যুগটা মিডিয়ার। যুগটা তথ্যবিপ্লবের। মার্শাল ম্যাকলুহান বলেন, ‘যুগটা বিশ্বায়নের’। মিডিয়ার সর্বগ্রাসী দানব আঘাতে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি। মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার। তাদের ‘ল্যাপটপ’-এর বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল হলো—‘হঠাৎ হিরো ক্যাম্পাসে’। সিঙ্গারের ল্যাপটপ থাকলেই সে হিরো হয়ে যাবে ক্যাম্পাসে! পড়াশোনা, ভালো রেজাল্ট, ভালো মানুষ হওয়া, এসব দরকার নেই! দরকার একটি ল্যাপটপ। আসলে ল্যাপটপ তো এমন দুর্লভ কিছু নয় তবুও বিজ্ঞাপনের

মাধ্যমে তাকে দুর্লভ বোঝানো হচ্ছে।
আরেকটি বহুজাতিক কোম্পানির মোবাইলের বিজ্ঞাপন,
—‘আপনারটা… খোলাতো
বকি সব গোলায় যাক…।’
এমনই আরেক মোবাইল কোম্পানির বিজ্ঞাপন—‘এই বসন্তে ভালোবাসার বৃষ্টি ঝরবেই…।’
বসন্তে বৃষ্টি সাধারণত ঝরে না, তারা বলছে ঝরবেই। বিজ্ঞাপনের ভাষাই বলে দিচ্ছে ওদের ঋতুজ্ঞান কেমন।
ইউনিলিভার-এর পণ্য—ফেয়ার এন্ড লাভলীর বিজ্ঞাপনে দেখা যায় মেয়েটার মুখে দাগ। ছেলেটি একটি অশ্লীল অশোভন লুক দেয় তার দিকে। দাগ উঠে যাবার পর মেয়েটিও অশোভন ভঙ্গীতে ছেলেটির দিকে লুক দেয়। এটা এক ধরনের ইভটিজিং। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা ইভটিজিং-এ প্রলুব্ধ হচ্ছে।

এইড্স সচেতনতায় স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর যেসব বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে সেগুলো দেখলে মনে হয় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্রচারটাই মুখ্য, এইড্স সচেতনতা নয়। যত্রতত্র এসব বিজ্ঞাপন আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি-সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বলা হয়ে থাকে—একটি জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও তবে সে জতির সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দাও। সংস্কৃতি কী—জীবনের শিল্পসম্মত বিন্যাসই হচ্ছে সংস্কৃতি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনাচার, কবিতা, গল্প, গান, নাটক, নৃত্য, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম, আচার, রুচি, খাদ্যাভাস সবই সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কয়েকবছর আগে একটি ধারাবাহিক নাটকের নাম ছিল ৪২০। ফোর টুয়েন্টি, কথাটা সাধারণত ইতর, অসভ্য, টাউট-বাটপার শ্রেণির লোকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। আমাদের নাটকের কারিগররা কতটা অমেধাবী ও ইতর তা আলোচ্য নাটকের নাম থেকেই বোঝা যায়। । এরকম রুচিহীন ইতরোচিত বিজ্ঞাপন ও নাটক আমাদের সংস্কৃতিকে কোথায় নিয়ে যেতে চায় এটাই আজ সচেতন নাগরিক সমাজের ভাবনা।
সব কিছুরই নিয়ম-নীতি আছে। আমাদের দেশে বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও প্রচারের কোনো নীতিমালা নেই। যার যা খুশি বিজ্ঞাপন বানাচ্ছে। সেগুলো টেলিমিডিয়ায় স¤প্রচার হচ্ছে, বেতারে স¤প্রচার হচ্ছে, মুদ্রণমাধ্যমে ছাপা হচ্ছে। সমাজে এর খারাপ প্রভাব পড়ছে। একটা মোবাইল ফোনই যেন জীবনের সবকিছু…। কিন্তু ক’বছর আগেও যখন মোবাইল ফোন ছিল না, তখন আমাদের জীবন কি চলেনি?

বিজ্ঞাপনে ভুল তথ্য দেয়া ঠিক নয়।
একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে—‘দুই একে দুই, দুই দুগুণে পাঁচ’। গণমাধ্যমে এটি প্রচারও হচ্ছে। বড়রা বুঝলেও শিশুরা তো এর মাধ্যমে ভুল তথ্য শিখবে। তাছাড়া এটি একটি মিথ্যা কথা।

বিজ্ঞাপন বনাম প্রতারণা
বিষয়টি হাস্যকর। ৫ কোটি টাকার চ্যালেঞ্জ দিয়ে নিত্য বিজ্ঞাপন প্রচারিত হচ্ছে মিডিয়ায়। রং ফর্সাকারী ক্রিমের। ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী মাখলে গায়ের রং কখনো ফর্সা হয় না। ক্রিম মেখে গায়ের রং কখনোই ফর্সা হয় না—এটা স্কিন বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সাময়িক ফর্সা দেখা যায় মাত্র। কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার ভুল, মিথ্যা, এমনকি প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে। এটি একটি প্রতারণা। কিন্তু বিজ্ঞাপনের দৌরাত্ম্যে এরকম বহু পণ্য ক্রয়ে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে।

কয়দিন আগে পত্রিকায় দেখলাম—বিজ্ঞাপন—
—‘এক ঘণ্টায় মেদভুঁড়ি কমান’; মাত্র এক ঘণ্টায় মেদভুঁড়ি কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয়। দেশের একটি মুদ্রণমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ বিজ্ঞাপন দিচ্ছে—‘বদলে যাও বদলে দাও’ অথবা—‘নিজেকে বদলাতে হবে আগে’।

এই বিজ্ঞাপনের বিপক্ষে দেশের আরেক চব্বিশ ঘণ্টার নিউজ এজেন্সি ‘বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম’ বিজ্ঞাপন দিয়েছে—‘সবকিছু বদলে দিতে নেই—’ যেমন সত্য, শৈশব, সুন্দর, খবর এসব বদলানো অসম্ভব। চিরায়ত বিষয়কে তো বদলানো ঠিক নয়। এভাবে একটি গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপনের একেবারে বিপরীতে, তাকে বাতিল করে দিয়ে যুক্তিযুক্ত কথা নিয়ে হাজির হয়েছে অন্য আরেক গণমাধ্যম। এখন আমরা যারা দর্শক-শ্রোতা আমরা বুঝে নেব আসলে কোনটা ঠিক, কোনটা গ্রহণীয়। প্রতারণা, ভাঁওতাবাজি, চালাকি-চাতুর্য এসব সাময়িক মোহ তৈরি করে বটে, চিরায়ত সত্য তো হাজার বিজ্ঞাপনেও বদলে যাবে না—যায় না।
বিজ্ঞাপন : মিডিয়া সাম্রাজ্যবাদের নয়া সন্ত্রাস-এ প্রবন্ধের শিরোনাম দিয়েছি। এখন যুগটা হচ্ছে বাজারের। বাজার দখল করতে পারলে দেশটা আক্ষরিক অর্থে আর দখল না-করলেও চলে।

আমাদের দেশের গরিব চাষির যে বীজ ধান তার নাম ‘সুফলা’। সুফলা নামের মধ্যেই বিষ। সুফলা আসলে কুফলা। বহুজাতিক কোম্পানির হাইব্রিড ধান আমার দেশের কৃষক কিনছে বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে। একবার কিনলে প্রতিবারই কিনতে হবে। এ ধান তো নির্বীজ। এ ধান থেকে বীজধান হবে না। এভাবে একটা বাণিজ্যচক্রের নির্মম শিকার হয়ে পড়ছি আমরা। বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে বিকল্প লোকজ-দেশজ বিষয়ের দিকে আমাদের চোখ ফেরাতে হবে। কাজটা কঠিন। তবে তারুণ্যই পারে এমন কঠিন কাজেও সফল হতে। বিজ্ঞাপনের আগ্রাসী সন্ত্রাস থেকে মানুষের মুক্তি হোক। তা কি সম্ভব ?

লেখক : কবি, সাংবাদিক।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর