
উপজেলা প্রতিনিধি, সুবর্ণচর ; জেলার সুবর্ণচর উপজেলার ইটভাটা গুলোতে গাছ পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে। মানব বন্ধন ও প্রশাসনে স্মারকলিপি দিয়েও থামানো যাচ্ছেনা এই সকল ইটভাটার দৌরাত্ব। এই ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন আইন। সরেজমিনে ইটভাটাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নে সাতাইশদ্রোন নূরানী গ্রুপ অব কোম্পানির সত্ত্বাধিকারী হাজী আবুল কাশেম এর ইটভাটার সামনে কিছু কয়লা রেখে ভিতরে গাছের লাকরি দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চলছে, এটা পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে এক ধরণের প্রতারণার সামিল। এতে সুবর্ণচরের জীব বৈচিত্র থেকে শুরু করে কৃষি জমিগুলোর পাশাপাশি আমাদের পরিবেশের
মারাত্বক ক্ষতি সাধন করছে। বাড়ছে শিশু রোগসহ শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত সমস্যাসহ মারাত্বক কিছু রোগ ব্যাধি। এছাড়া ফসলী জমিনগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে, অথচ পরিবেশে অধিদপ্তরের একটি আইনে বলা হয়েছে,তিন ফসলী জমির এক কিলোমিটারের ভিতরে কোন ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। সুবর্ণচর উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে ইটভাটা সম্পর্কে তথ্য চাইলে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা(এসিল্যান্ড) ছুটিতে থাকায় উপজেলা ভূমি সহকারি কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন আমাদের জানান”, উপজেলাতে মোট ১১টি ইটভাটার ভূমি রাজস্ব আদায় করা হয়।কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর শর্তে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র নেয়া হলেও আদৌতে গাছের লাকরি দিয়ে তারা ইট পোড়া দিচ্ছে,এরকম তথ্য দিলে তিনি বলেন,বিষয়টি আমাদের বোধগম্য না,তবে যেহেতু আপনি তথ্য দিলেন তাই বিষয়টি আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে জানাবো।”
এই বিষয়ে সুবর্ণচর সচেতন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন”,ইটভাটাগুলো যে পরিমাণ রাজস্ব রাষ্ট্র কে প্রদান করেন, তার দশগুণ বেশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ তারা নষ্ট করে,সুবর্ণচরের গ্রামীণ সড়কগুলোর প্রায় ৮০% সড়ক ইটভাটাগুলোতে ব্যবহৃত পাওয়ার টিলার নামক বড় ট্রাক্টর দিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে।এতে করে সাধারণ পথচারীরা বিভিন্ন ধরণেরভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। সুবর্ণচরের সচেতন মহল সুবর্ণচরে পরিবেশ দূষণকারী এরকম ইটভাটাগুলো বন্ধে প্রশাসনের কার্যকরী প্রদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
আপনার মতামত লিখুন :