
মোহাম্মদ হানিফ, সোনাইমুড়ী : সাত বছরের কন্যা শিশু ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল সোনাইমুড়ী উপজেলা। ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে চলছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ। এদিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীর মায়ের।
ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিতে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এছাড়া গতকাল ভুক্তভোগীর গ্রামবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও ধর্ষকের দ্রুত শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে।
সোনাইমুড়ী পৌরসভার বাইপাস রোড়ে নদনার এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এই মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
এসময় ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি ঝটিকা মিছিল সোনাইমুড়ী বাইপাস চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে দুপুরে জোহর নামাজ শেষে উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদে সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ডাঃ মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নেতা-কর্মীরা।
বক্তারা ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে ধর্ষণের ঘটনার বিচার নিষ্পত্তির দাবি জানায়। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার নিন্দা জানান।
এর আগে গতকাল বিকালে উপজেলা নদনা ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল করে এলাকাবাসী। মিছিল শেষে তারা সোনাইমুড়ী-চাটখিল সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় বসে পড়ে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চাটখিল-সোনাইমুড়ী রুটের সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয় যায়। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সকলের সাথে কথা বলে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এদিকে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা। সুস্থ না হলেও নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জোরপূর্বক রিলিজ (ছাড়পত্র) দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মা। তিনি জানান, সাংবাদিক-মানবাধিকারকর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা হাসপাতালে আসায় বিরুপ আচরণ করছেন চিকিৎসকেরা। আজ সকালে তার মেয়েকে জোরপূর্বক রিলিজ দিয়ে দেয়। এসময় হাসপাতালের বিছানা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সাদা কাগজে সাক্ষর দিতে বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পিতা বিহীন শিশুটির মা মামলা ও চিকিৎসার খরচ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন বলেও জানান।
আপনার মতামত লিখুন :