প্রকাশিত: ২ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২ জুলাই, ২০২৫

সোনাইমুড়িতে ব্রিজ নির্মাণে দুর্নীতি: পিআইও’র নিষেধ সত্ত্বেও থামছে না নিম্নমানের কাজ!

মোহাম্মদ হানিফ, নিজস্ব প্রতিনিধি : সোনাইমুড়িতে একটি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের পাথর, বালি এবং নিয়ম অনুযায়ী রড কম ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদারকে নিম্নমানের মালামাল সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হলেও তারা তা মানছে না। সর্বশেষ, বুধবার (২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রিজ নির্মাণে বাধা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোনাইমুড়ী উপজেলার কাশীপুর-অম্বরনগর সড়কের চৌমুহনী ছাতারপাইয়া খালের উপর এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স প্রগতি ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ রাস্তার ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু কালভার্ট নির্মাণ (সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় এই ব্রিজের জন্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার ২৭৫ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ জুন নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিলের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধীরগতিতে কাজ করছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজ নির্মাণের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিম্নমানের পাথর ও বালি এনে প্রকল্প এলাকায় স্তূপ করেছে। এমনকি ব্রিজে নিয়ম অনুযায়ী রড ব্যবহার না করে কম রড দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এলাকাবাসী কয়েকবার নির্মাণ কাজে বাধা দিলেও ঠিকাদার রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রগতি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হিরন মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি সঠিক নিয়মেই ব্রিজ নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিশকাতুর রহমান অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “কাশিপুর বাজারের মধ্য দিয়ে খালের উপর ব্রিজ নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে এটা সত্য। ঠিকাদার কোথা থেকে এত নিম্নমানের পাথর এনেছে! এইসব পাথর দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করলে অল্প দিনেই ব্রিজ ভেঙে পড়বে। তিনি আরও জানান, কয়েকবার লিখিতভাবে.ঠিকাদারকে সতর্কীকরণ নোটিশ দিলেও তা তিনি মানছেন না।

সেতু কালভার্ট প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী কমল বরন সাহা বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইতিপূর্বে তাকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। তিনি অতি শীঘ্র এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সরকারি প্রকল্পের এমন গুরুতর অনিয়ম বন্ধে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কবে নাগাদ এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ হবে?

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর