প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৮ জুলাই, ২০২৫

বর্ষার তাণ্ডবে ডুবল নোয়াখালী থমকে গেছে জনজীবন

মোহাম্মদ হানিফ,নিজস্ব প্রতিনিধি : আষাঢ়ের অঝোর ধারায় সৃষ্ট মুষলধারে বৃষ্টিতে নোয়াখালী কার্যত পানিতে ভাসছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত জেলার স্বাভাবিক জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে এই হৃদয়বিদারক খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে এবং নদীবন্দরে ১ নম্বর ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।

টানা বর্ষণে মাইজদীর প্রাণকেন্দ্র প্রেসক্লাব সড়ক, টাউন হল মোড়, ইসলামিয়া সড়ক, ডিসি সড়ক, মহিলা কলেজ সড়ক, জেলখানা সড়ক, এবং মাইজদী বাজার সড়কসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ সকালে কাজে যেতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, যেন শহরবাসীর গতি থমকে গেছে আকস্মিক বন্যায়।

স্থানীয়দের বুকফাটা অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের নালা ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়াই এই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার মূল কারণ। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেও নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মানুষকে এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ যেন প্রকৃতির রোষানল নয়, বরং মানুষের অবহেলারই ফল।

কেবল মাইজদী নয়, কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা এলাকার করালিয়া, মওদুদ স্কুল, কলেজ গেইট, হাসপাতাল গেইটসহ অনেক রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ি, কবিরহাট, সুবর্ণচর, এবং সেনবাগ উপজেলাতেও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিকভাবে জেলার দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে।

এই আকস্মিক বন্যা জেলার জনজীবনকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। এটি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং শহরের দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটিগুলিকেও নির্মমভাবে উন্মোচন করে দিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতেও এই জেলার মানুষকে একই রকম হৃদয়বিদারক দুর্ভোগের শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই জনপদের কান্না কি কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাবে?

জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ পরিস্থিতি পরিদর্শন করে বলেছেন, “বিভিন্ন এলাকা আমি ঘুরে দেখেছি। প্রধান সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। তবে পাশের কিছু সড়ক পানিতে ডুবে গেছে।” যদিও সরকারিভাবে প্রধান সড়কের জলাবদ্ধতা অস্বীকার করা হচ্ছে, বাস্তবে স্থানীয়দের দুর্ভোগের চিত্র ভিন্ন কথা বলছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর