প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৫

সিগনাল জারি, সিট্রাক বন্ধ-তবু বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার সামনেই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া  : হাতিয়ার নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাট রুটে নদী পারাপারের একমাত্র সরকারি নৌযান সিট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলেও, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই চলছে ফিটনেসবিহীন ছোট ছোট ট্রলার।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত চলমান থাকায় সিট্রাক চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন নৌ-পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) এক কর্মকর্তা মাহমুদ নবী। কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে ইজারাদারের মালিকানাধীন, ফিটনেসবিহীন ট্রলারগুলো দেদারসে চলাচল করছে—যা জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে যাত্রীদের।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে একাধিক ট্রলার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। একইভাবে নলচিরা থেকে চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশ্যেও ট্রলার ছেড়ে যাচ্ছে। সরকারি সিট্রাক বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রলারে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সিগনালের কারণে সিট্রাক বন্ধ থাকলেও, ইজারাদার ও ট্রলার মালিকদের প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার চলাচল করছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যাত্রী আলা উদ্দিন বলেন, “আমি স্ত্রী ও ছোট সন্তান নিয়ে চিকিৎসা শেষে জেলা সদর থেকে ফিরছি। কিন্তু ঘাটে এসে জানতে পারি সিগনালের কারণে সিট্রাক চলবে না। তখন ঘাটের লোকজন আমাদের ট্রলারে উঠতে বলে। যদি সিট্রাকই নিরাপদ না হয়, তাহলে ট্রলার কীভাবে নিরাপদ হয়? আমরা তো ঘাট ইজারাদারের হাতে বন্দি হয়ে গেছি।”
অন্য এক যাত্রী শাহেদ উদ্দিন বলেন, “ঘাট ইজারাদার আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে বাধ্য করছে, আর পকেট ভারি করছে। মনে হচ্ছে এসব টাকা বিআইডব্লিউটিএ ও প্রশাসনের কিছু লোকজনও ভাগে পাচ্ছে। না হলে কর্মকর্তা সামনেই ট্রলার চলে, অথচ কেউ কিছু বলে না!”
এ বিষয়ে ট্রলার পরিচালনায় অনুমতির কথা জানতে চাইলে ঘাট ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, “শত শত মানুষ কষ্ট করছে। আমি প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বোট চালাচ্ছি। কারও কিছু বলার থাকলে নৌবাহিনী, পুলিশ বা প্রশাসনের সাথে বলুন।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “সরকারি নির্দেশনায় সিট্রাকসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমাদের প্রতিনিধি ঘাটে গিয়ে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে। কিন্তু পরে ইজারাদার ও ট্রলার মালিকরা নিজের মতো করে ট্রলার চালানো শুরু করে। সেখানে আমাদের লোকজনের সঙ্গে ফোর্স না থাকায় তারা বাধা দিতে পারেননি।”
এ বিষয়ে নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মাহমুদ নবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা বলছেন, এই দ্বিচারিতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে একদিকে সরকারি সেবার ঘাটতি, অন্যদিকে ইজারাদারের খামখেয়ালিপনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর