
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : উপজেলা হাতিয়ায় চর্ম ও অ্যালার্জি রোগ এখন জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন শতাধিক রোগী এসব সমস্যায় চিকিৎসা নিতে আসছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা জনসচেতনতার অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং অবাধে স্টেরয়েডজাত ক্রিম ব্যবহারের কথা বলছেন। স্থানীয়ভাবে ছোট-বড় প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চুলকানি, ফুসকুড়ি, একজিমা, ফাঙ্গাস ও স্ক্যাবিসে ভুগছেন।
সরেজমিনে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর তুলনায় চাহিদার তুলনায় ওষুধের সরবরাহ অত্যন্ত কম।হিস্টাসিন: দৈনিক চাহিদা ১,৫০০ পিছ, সরবরাহ মাত্র ৯০০।বিবিএল: প্রতিদিন চাহিদা ৩০-এর বেশি, অথচ পুরো মাসে সরবরাহ মাত্র ৩০।হুইটফিল ক্রিম: প্রতিদিন প্রয়োজন ৩ কেজি, সরবরাহ হচ্ছে মাসে ২০ কেজি।
এছাড়া গত ছয় মাস ধরে চর্ম অ্যালার্জি চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ‘ সিপ্রোক্লস এর সরবরাহও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা শিরিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “ছোট বাচ্চাদের মধ্যে ফুসকুড়ি আর চুলকানি বেশি দেখা দিচ্ছে। ডাক্তার দেখাইতে গেলে ওষুধের দাম এত বেশি যে, গরিব মানুষ কিনতে পারতেছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে কবিরাজি বা ভেষজ চিকিৎসায় ঝুঁকছে।”
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস সালমান বলেন, “হাতিয়ায় প্রধানত দাদ ও স্ক্যাবিসের প্রকোপ বেশি। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের ফলে রোগ জটিল হয়ে উঠছে। এতে সহজে আরোগ্য হয় না, বরং ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে।” তিনি জানান, পরিবারের আক্রান্ত সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসা না করালে রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না এবং পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, “বর্তমানে হাতিয়ায় চর্ম, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবর্তিত আবহাওয়া, পরিবেশ দূষণ এবং জনসচেতনতার অভাবই এর মূল কারণ।”
ওষুধ সরবরাহ বিষয়ে তিনি বলেন, “চাহিদার তুলনায় যে পরিমাণ ওষুধ আসে তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। যা পাই তা দিয়েই ভাগ করে রোগীদের মধ্যে সামান্য করে দিতে হয়। এতে অনেক রোগী বঞ্চিত হন, আবার অনেককে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হয়।”
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চর্ম ও অ্যালার্জি রোগ হাতিয়ার জন্য ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। তাই সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, নকল ওষুধ নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :