
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় গৃহবধূকে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে হাতিয়ায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে বুকে পা চেপে ধরার পর ওই গৃহবধূর চিৎকারের শব্দ মোবাইলে শুনানো হয় তার বাবাকে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হাতিয়ার বুড়িরচর ইউনিয়নের রেহানিয়া গ্রামে।
পরে পুলিশের সহায়তায় ওই গৃহবধূ ফারজানা বেগমকে (২৪) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মহিলা ওয়ার্ডের ২৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন।
ফারজানা জানান, সাত বছর আগে তার বিয়ে হয় আবদুল গনির সঙ্গে। দুই সন্তানের জননী হলেও বিয়ের পর থেকে স্বামীর অতিরিক্ত অর্থের চাহিদা মেটাতে গিয়ে বাবার বাড়ি থেকে বহুবার স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, ঘরের আসবাবপত্রসহ নানান কিছু দিতে হয়েছে। তবুও তার স্বামী অসন্তুষ্ট থেকে নিয়মিত নির্যাতন চালাতো।
সম্প্রতি স্বামী পাশের বাড়ির এক বিধবা মামাতো বোনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বাধা দিলে ফারজানার ওপর নেমে আসে নৃশংস নির্যাতন। ঘটনার দিন রাতে স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে খাটের সঙ্গে বেঁধে মুখ কাপড়ে চেপে ধরে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে তার বুকের ওপর পা রেখে নির্যাতনের শব্দ মোবাইলে বাবাকে শুনানো হয়।
নির্যাতিতার পিতা মো. হানিফ জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ ও নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের ভয়ংকর আওয়াজ ফোনে শোনানোর পর তিনি থানায় অভিযোগ দেন। পুলিশ এসে মুমূর্ষু অবস্থায় তার মেয়েকে উদ্ধার করে।
সূর্যমূখী মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছে। শনিবার শালিশের কথা থাকলেও তার আগেই এ ঘটনা ঘটে।
হাতিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রতিক পাল বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ জমা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :