প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০২৫

হাতিয়া বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘরে ঢুকে শারীরিক নির্যাতন, বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম (স্ত্রী: মো. হাশেম) সোমবার (৬ অক্টোবর) হাতিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর আগের ঘটনা ঘটে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ইসলামপুর গ্রামের মৃত হারুন মাঝির ছেলে এবং স্থানীয় বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য।
ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন প্রবেশ করে কুপ্রস্তাব দেয়।
আপত্তি জানালে কহিনুরকে গালিগালাজ ও হুমকির পর চুল ধরে টেনে, কাপড় ছিঁড়ে বিবস্ত্র করে ফেলে।

লাঠি দিয়ে দুই পায়ের গিরাসহ শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে মারধর করে আহত করে। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
আইনগত ব্যবস্থা ঠেকাতে জোরপূর্বক তিনটি একশ টাকার সাদা স্ট্যাম্প ও দুইটি নীল কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

এরপর সহযোগীদের দিয়ে বাড়ির আশপাশ পাহারা বসিয়ে কয়েকদিন অবরুদ্ধ রাখা হয়।

কহিনুর বেগম বলেন, “আনোয়ার মেম্বার মোবাইল ফোনে বহুবার কুপ্রস্তাব দিত। আমি নাম্বার ব্লক করে দিলে সে ক্ষুব্ধ হয়। ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমার ঘরে ঢুকে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। বাধা দিলে আমাকে বিবস্ত্র করে মারধর করে। এমনকি চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি। কয়েকদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। আমি এই অত্যাচারের সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন বলেন, “কহিনুর বেগমের মায়ের অনুরোধে তাদের দাম্পত্য বিবাদ মীমাংসায় গিয়েছিলাম। সমাধান না হওয়ায় একটি পক্ষ আমার সম্মানহানি করতে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।”

হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলেন, “মামলার বিষয়ে আদালত থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর