
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এর মধ্যে চরঈশ্বর আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আফাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আফাজিয়া জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে, যা অতি শীঘ্রই বিলীন হয়ে যাবে। ফলে এ অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীভাঙনে শুধু বসতবাড়িই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, আফাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মসজিদ ভাঙনের কবলে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
ভাঙন রোধে পদক্ষেপ না নিলে।
আফাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমজাদ হোসেন জানান, ভাঙনের কারণে বারবার স্কুল ভবন হারিয়ে অন্যত্র স্থানান্তর করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা বাদ দিয়ে কর্মে ঝুঁকছে।
শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনে আফাজিয়া ইউনিয়নেই প্রায় ২৫টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। পুরো হাতিয়া উপজেলায় সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অর্ধশতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠানের ভবন, লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি ও খেলার মাঠ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অভিভাবক জাকের হোসেন জানান, সন্তানদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। প্রতিনিয়ত নদীর ভাঙনে কোন স্কুল বা মাদরাসা যে কোন মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাবে—এই ভয়ে স্থায়ী সমাধান চান তারা।
নিপু খলজি জানান, মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে তার বাপ-দাদার স্মৃতি ধ্বংসের মুখে। শৈশবের খেলার মাঠ, আঙিনা আর প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় তিনি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন। একসময়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ হারিয়ে গেলে শুধু স্মৃতি নয়, প্রজন্মের ইতিহাসও মুছে যাবে বলে আশঙ্কা তার।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, শিক্ষা ধ্বংস হলে আগামী প্রজন্ম অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই আফাজিয়া স্কুলসহ হাতিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
আপনার মতামত লিখুন :