
উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ/আইনসভা রয়েছে। যা নিম্নকক্ষ (Lower House) ও উচ্চকক্ষ (Upper House) হিসেবে পরিচিত। উচ্চকক্ষের প্রধান কাজ হলো নিম্নকক্ষে প্রস্তাবিত বিল পর্যালোচনা করা এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তবে কোন কোন দেশে ব্যাতিক্রম হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি শাসিত সংসদ ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ সমান/বেশি ক্ষমতা ভোগ করে থাকে পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সংসদ ব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ নিম্নকক্ষের তুলনায় কম ক্ষমতা পেয়ে থাকে।
অর্থাৎ উচ্চকক্ষ এখানে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা রাখে না বরং প্রস্তাবিত বিল পর্যালোচনার সুযোগ পায়। সম্প্রতি “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন” বাংলাদেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবনা প্রদান করেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নিম্নকক্ষ এবং পরবর্তীতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। যা এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারে।
তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল এবং ঋণগ্রস্ত দেশে প্রথমত সংসদ/আইনসভায় উচ্চকক্ষ গঠনের (Upper House) প্রয়োজনীয়তা নাই। এরপরেও যদি উচ্চকক্ষ গঠন করতে হয়, তবে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব হারে উচ্চকক্ষের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে এবং উভয় (উচ্চ ও নিম্ন) কক্ষের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
উচ্চকক্ষে ছোট-বড় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব থাকলে সরকারি দলের একক আধিপত্য হ্রাস পাবে এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিরোধী কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করতে উচ্চকক্ষে রাজনীতি বহির্ভূত নিরপেক্ষ দেশপ্রেমিক ব্যক্তির প্রয়োজন রয়েছে। যদি পূর্বের ন্যায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের মতো গৃহপালিত কিংবা স্বজনপ্রীতিমূলক উচ্চকক্ষ তৈরি করা হয় তবে উচ্চকক্ষ রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট এবং বিলাসিতা ছাড়া কোন কল্যাণ বয়ে আনবে না।
• লেখক: সিনিয়র শিক্ষক (জেনারেল), মাদরাসায়ে দারুল কুরআন বাহাদুরপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
আপনার মতামত লিখুন :