প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৫ নভেম্বর, ২০২৫

মাইজদী বালিকা বিদ্যানিকেতন স্কুলের রাস্তা দখলে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

মোহাম্মদ সোহেল, নুশরাত রুমু, মাইজদী : নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদী বালিকা বিদ্যানিকেতন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথের রাস্তা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে। ‘মানি না, মানবো না-নিরাপত্তা দিতে হবে’এমন স্লোগানে সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ৩০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়, পৌরসভার অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তা দখলের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে খবর পেয়ে দৈনিক নোয়াখালীর কথার প্রতিনিধি ২ নভেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া সুলতানা জানান, ১৯৬৬ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিকুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি নোয়াখালী সদরের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পাশে থাকা রাস্তার জায়গা স্থানীয় হাবিবুর রহমান উকিল বিদ্যালয়ের জন্য দান করেছিলেন। বিদ্যালয়ের অর্থেই রাস্তা নির্মাণ করা হয়। তবে বর্তমানে তার উত্তরসূরিরা ওই জায়গা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে চেয়ে রাস্তা দখলের চেষ্টা করছেন।

প্রধান শিক্ষক বলেন, রাতের অন্ধকারে কিছু ব্যক্তি পৌরসভার আইন অমান্য করে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সফিকুর রহমানের মেয়ে সাহিদা পারভিন দৈনিক নোয়াখালীর কথাকে বলেন, মাত্র ৮ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চলাচল করে। অথচ পাশের বহুতল ভবনের গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা দখলের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক। পৌরসভা বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সফিকুর রহমানের ছেলে মহিউদ্দিন শিমু বলেন দৈনিক নোয়াখালীর কথাকে বলেন, জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা করা অবৈধ, তারপর তারা এত বড় এ্যাপমেন্ট নির্মাণ করেছে নিজস্ব কোন রাস্তার ব্যবস্থা করেনি। স্কুলের এই রাস্তাদিয়ে দুইটা গাড়ি পার হতে পারবে না। এই বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

এদিকে, অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি, ফলে এবিষয়ে তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) জিনাত রেহানা বলেন, আমি পৌরসভাকে বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। তবুও পুনরায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়া অগ্রহণযোগ্য। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগতভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সোমবার সকালে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী, নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে রাস্তা ও বিদ্যালয়ের অবস্থা পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর