প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০২৫

নিহত দুই সহপাঠীর স্মরণে নোয়াখালী কলেজ শিক্ষার্থীর কফিন মিছিল

নুশরাত রুমু , মাইজদী : নোয়াখালী সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ও তানিম হাসান সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনায় কফিন মিছিল ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১১টা থেকে ঘন্টাব্যাপী কলেজ ক্যাম্পাসে চলা এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বেশিরভাগ কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেও বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নোয়াখালী সরকারি কলেজের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে কলেজে পর্যাপ্ত আবাসিক হল না থাকায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন বাসাবাড়ি থেকে গণপরিবহনে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রায় গণপরিবহনে হেনস্থার শিকার হয়।

এছাড়াও অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনে প্রতিনিয়তই কোনো না কোনো শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। সবশেষ গত ৪ নভেম্বর সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক চাপায় কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইসরাত জাহান ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তানিম হাসান সহ ছয় যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। অথচ দেশের অন্যান্য কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো নোয়াখালী সরকারি কলেজের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকলে মেধাবী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ও তানিম হাসানের এমন অকাল মৃত্যু হতো না।

মানববন্ধনে নোয়াখালী সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত জেলার ৯ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার ২০ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে কলেজের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানানো হয়। এ সময় কলেজ কর্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী আগামী সোমবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

দৈনিক নোয়াখালীর কথা পত্রিকাকে বলেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, নোয়াখালী কলেজের নিহত দুজন শিক্ষার্থীর একজন আমাদের সমাজবিজ্ঞানের ইসরাত। সে খুব ভদ্র,  ভালো মেয়ে ছিল। সে এখানের নিয়মিত ছাত্রী। তার বাবা ফার্নিচার দোকানের একজন কর্মী। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবার তাদের। যাতায়াতের দূরত্বে এমনিতেই বিভিন্ন সমস্যায় ছিল। এখন তো পৃথিবীতেই রইল না। আমরা ইসরাত ও তানিমের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং শোকগ্রস্থ দুই পরিবারের প্রতি রইল সমবেদনা। কলেজের সব ছাত্র-ছাত্রীর যাতায়াত সমস্যা দূর করতে নিজস্ব পরিবহন সেবা চালুর শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একমত পোষণ করছি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুলফিকার হায়দার এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, আমার বাড়িও বসুরহাট। সে কারণে ছাত্রী  ইসরাত বেশি পরিচিত ছিল। তার বাড়ি বামনি বাজার। সেজন্য কলেজ থেকে বাড়ি যেতে তার তিনবার গাড়ি বদল করতে হতো। যা ঝুঁকিপূর্ণ। দৈনিক আসা যাওয়ায় তিনশত টাকা খরচ হতো। একটি অসচ্ছল পরিবারের জন্য এটি কঠিন। নারী শিক্ষার্থী হিসাবে বারবার গাড়ি বদলও সমস্যার। আমি তার জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলাম। সাধ্যামত সামান্য আর্থিক সহায়তা করেছি। ইসরাত ও তানিমের আত্মার শান্তি কামনা করি। আমরা চাই না আমাদের আর কোনো শিক্ষার্থীর এই করুণ পরিণতি হোক। এজন্য শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সমর্থন জানাই।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর