
প্রবাসী প্রতিবেদক : শনিবার (৮ নভেম্বর) বাদ মাগরিব আমেরিকার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনস্হ নোয়াখালী বভনের সামনে নোয়াখালী জেলাকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে গণ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি নাজমুল হাসান মানিক।
গণসমাবেশে বক্তব্য রাখেন আহছান উল্লাহ বাচ্চু, মাঈনুল উদ্দিন মাহবুব, ছালেহ আহম্মেদ চৌধুরী রুবেল, শাহ নেওয়াজ স্বপন জাহাঙ্গীর সরওয়া্রদী, আনোয়ারুল আজিম, জামাল উদ্দিন।
এতে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী সোসাইটির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাঈন উদ্দিন পিন্টু, এ বি ছিদ্দিক প্রকাশ মন্ত্রী, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট আবদুল মতিন পারভেজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্লোগান দিয়ে পুরো এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। তাদের স্লোগান ছিল “দাবি মোদের একটাই, নোয়াখালী কে বিভাগ চাই। রক্ত লাগলে রক্ত নে, নোয়াখালী নামে বিভাগ দে।” বিক্ষোভকারীদের হাতে এবং বুকে ছিল প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন। মিছিলটি নোয়াখালী ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে চার্চ মেকডোনাল্ড এভিনিউ/ লিটল বাংলাদেশ ও চর্চ এভিনিউ হয়ে বিভার্লী এভিনিউতে এসে শেষ হয়। মিছিলে নিউইয়র্ক এ বসবাসকারী নোয়াখালী রেমিট্যান্স যোদ্ধা বহু নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।
বক্তারা বলেন বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সিতে রিজার্ভ বৃদ্ধি সহ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শতকরা ৩৫ ভাগ যোগান দেয় নোয়াখালীর রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত থেকে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন এই জেলার প্রায় ১০ লক্ষাধিক শ্রমিক। গ্রেটার এ জেলার আয়তন ৪২০২ বর্গ কিলোমিটার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর দ্বিগুণ হবে দক্ষিণে সাগর লাগোয়া হাজার হাজার (চরাঞ্চল) একর দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। ১৬৬০ সালে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নোয়া (নতুন) একটি খাল খনন করে সে “নোয়া “খাল থেকে নোয়াখালী র জন্ম। এ নামেই পরিচিতি লাভ করে। ঢাকা থেকে নোয়াখালীর দূরত্ব ১৬০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা জেলা। দূরত্ব ও বয়সের দিক দিয়ে নোয়াখালীই বিভাগ হওয়ার উপযুক্ত। লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, জেলার জনসাধারণ কে নিয়ে এ বিভাগ ঘোষণার দাবি রেমিটেন্স যোদ্ধাদের।
কোনভাবেই গণশুনানি না করে একতরফা ভাবে কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে গ্রেটার নোয়াখালী বাসী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে হরতালসহ রাজপথ, রেলপথ, নদী পথ অবরোধ করা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সাবেক নোয়াখালী জেলার ২০টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। নোয়াখালী নামে বিভাগ ঘোষিত হলে এ অঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ উপকৃত হবে।
নোয়াখালী জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক পুরনো । স্বাধীন বাংলাদেশের ৩য় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মাদ উল্লাহর বাড়ি রায়পুর লক্ষ্মীপুর সাবেক নোয়াখালী জেলা । বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম স্হান সাবেক নোয়াখালী জেলা বর্তমান ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়।
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার ড শিরীন শারমিন চৌধুরীর বাড়ি নোয়াখালী জেলার চাট খিল উপজেলায়। এ জেলা সুধারাম উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন-আব্দুল মালেক উকিল সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি। বিএনপির স্হায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিষ্টার মওদুদ আহমেদ, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষট্রপতি ছিলেন তাঁর বাডী নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনিও নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দা সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী রামগতি উপজেলা (সাবেক নোয়াখালী) লক্ষ্মীপুর আ স ম আব্দুর রব জাসদ সভাপতি।
গণসমাবেশে নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবি জানিয়েছেন অন্যথায় রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। অবিলম্বে এ দাবি মানার জন্যে বর্তমান ইন্টেরিম সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :