
সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া :
স্বাধীনতার পর প্রথমবার মূলভূখন্ডের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে হাতিয়ার বাসিন্দারা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফেরী চলাচল শীঘ্রই শুরু হবে। এতে দ্বীপের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে সুবিধা আসবে। ফেরী চলাচলের জন্য নলচিরা ও চেয়ারম্যান ঘাটে ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ চলছে। প্রায় শতাধিক শ্রমিক ২৪ ঘন্টা কাজ করছেন। ফেরীর মাধ্যমে মালামাল বোঝাই গাড়ী সরাসরি দোকানের সামনে পৌঁছাবে, পরিবহন খরচ ও ঝুঁকি কমবে।
একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের এই দ্বীপে সাড়ে সাত লাখ লোকের বসবাস। মূলভূখন্ডের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ-যোগাযোগ। দীর্ঘদিন সিট্রাক ও ট্রলারে নদী পারাপার করতে হতো। পুরাতন সিট্রাক প্রায় সময় বিকল থাকতো। ঝুঁকি নিয়ে ছোট ট্রলার ও স্পিডবোটে যাত্রী পার হতো। মালামাল আনা-নেওয়াতেও ছিল ভোগান্তি। বৃদ্ধ ব্যবসায়ী দুলাল বাপারী জানান, ফেরী চলাচলে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। মালামাল সরাসরি দোকানের সামনে পৌঁছাবে, ঝুঁকি ও পরিবহন খরচ কমবে।
পল্লী চিকিৎসক তানভির উদ্দিন বলেন, নদীর তীরে অসংখ্য মূমর্ষ রোগী ও গর্ভবতী মা বিপদের মুখে পড়তেন। শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষার আগে নৌ-চলাচল বন্ধে ভোগান্তি হতো। ফেরী চালু হলে এসব সমস্যা থাকবে না।
হাতিয়ার বাসিন্দারা উচ্ছ্বসিত। ফেরী চালু হলে যাত্রী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল সহজ হবে। দ্বীপের ইলিশ, ধান, বাদাম সহ উৎপাদিত পণ্য ট্রাকে সরাসরি মোড়কে পৌঁছাবে। এতে দ্বীপের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। হাতিয়া সম্মিলিত সামাজিক সংগঠনের মো: জুয়েল জানান, ফেরীর জন্য বাসিন্দাদের দীর্ঘ আন্দোলন ও সংশ্লিষ্টদের পরিশ্রমের ফল। নৌ-উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনও কয়েকবার পরিদর্শন করেছেন। বিআইডব্লিউটিএর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম আশ্রাফুজ্জামান বলেন, দ্রুত ফেরী চলাচলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। দুই পাড়ে লো-ওয়াটার ও মিড-ওয়াটার চারটি রাস্তা, জেটি, যাত্রী ছাউনি, ব্যাংক প্রোটেকশন ও এপ্রোচ রোড় নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :