প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

আদালতের আদেশ অমান্য করে হাতিয়ায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, হাতিয়া : হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের পথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে নতুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. ফরিদ উদ্দিন এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে নোয়াখালীর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের পথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পান মো. ফরিদ উদ্দিন। দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালে বাবুর্চি ও সহকারী না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি নিজ খরচে জনবল নিয়োগ দিয়ে সেবা চালু রাখেন। এতে বাবুর্চি বাবদ তার প্রায় তিন লক্ষ টাকা ব্যয় হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো সেই টাকা পরিশোধ করেনি।

ফরিদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করেই এবং তার কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নতুন অর্থবছরের জন্য টেন্ডার আহ্বান করেন। বিষয়টি বেআইনি দাবি করে তিনি হাতিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৮ নভেম্বর আদালত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের ওই নোটিশের যথাযথ জবাব না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরবর্তীতে আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে গত ১১ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নতুন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি মালামাল হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনাকে ‘আইন বহির্ভূত’ ও ‘আদালত অবমাননার শামিল’ উল্লেখ করে মো. ফরিদ উদ্দিন সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ জানান। একই সঙ্গে বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নতুন কার্যাদেশ বাতিলের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাদের আইনজীবী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করেছেন। আদালত থেকে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় সরকারি বিধি অনুসরণ করেই নতুন কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সিভিল সার্জন ডা. মরিয়ম সিমির ব্যবহৃত অফিস নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর