
উপজেলা প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ : বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ছোট হোসেনপুর গ্রামে ভূমি বিরোধের জেরধরে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার জনগন চরম আতঙ্কে রয়েছে।
মামলা ও বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ৬নং রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ছোট হোসেনপুর গ্রামের আফজাল হাজী বাড়ীর বৃদ্ধ আবুল হোসেন এর মালিকীয় ভূমি জোরপূর্বক একই বাড়ীর রেজাউল হক গং দখল করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে আবুল হাসেমের পুত্র আবদুল্যাহ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় দু’টি অভিযোগ দিয়েছে। ৩০/১১/২৫ ইং তারিখের ঘটনার অভিযোগটি এস.আই সবুর এবং ১৫/১২/২৫ ইং তারিখের ঘটনার অভিযোগটি এস.আই ইকবাল তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ বেগমগঞ্জ উপজেলাধীন ১৮১ নং ছোট হোসেনপুর মৌজার ৩৫ নং খতিয়ানের ২৫৬, ২৫৭, ২৫৯, ২৬০ দাগে এবং ১৮২ নং রাজুল্যাপুর মৌজার ১৯নং খতিয়ান ভূক্ত ৮৯২, ৮৭৫ দাগসহ কয়েকটি দাগের ভূমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।
এলাকায় শান্তির স্বার্থে রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেনসহ গন্যমান্য কতিপয় ব্যক্তি গত ছয় মাস ধরে বিবাধমান ভূমির বিষয় নিজাম মুহুরী, অনিল বাবু (আমিন) সহ বিরোধীয় ভূমি একাধিকবার পরিমাপ করে। পরিমাপে আবুল হোসেন গং ১৫ শতক ভূমি প্রাপ্য হয়। কিন্তু রেজাউল হক ও তার সন্ত্রাসী লোকজন জোরপূর্বক আবুল হোসেনের প্রাপ্য ভূমি মাটি ভরাট করে দখল করার চেষ্টা করে।
গত ৩০/১১/২৫ ইং সকালে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে মাটি ভরাট শুরু করে। পুলিশকে অবহিত করলে এস. আই সবুর ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পূনরায় গত ১৫/১২/২৫ ইং সকাল ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র লাটি সোটা নিয়ে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে।
৯৯৯ নম্বরে কল করলে বেগমগঞ্জ থানার এস.আই ইকবাল ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে ককটেল ফাটিয়ে আবুল হোসেন ও তার পুত্রদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল হোসেনকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উভয়ের পাওনা দেনা সবই ঠিক আছে। কিন্তু কে কোন স্থান দিয়ে নিবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত করতে না পারায় সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভাব হচ্ছেনা।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা রয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি আপনারা আদালত কিংবা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা সমাধান করার জন্য। এলাকায় ককটেল ফাটানোর বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি জানান, ”আমি কয়েক দিন যাবত অসুস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। ককটেল ফাটানোর ঘটনাটি আমার জানা নেই।”
ঘটনার বিষয়ে জানাতে বেগমগঞ্জ মডেল থানার এস. আই ইকবালকে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি কিছু মাটি ফেলানো হয়েছে। তবে ককটেল ফাটানোর ঘটনাটির কোন আলামত পাওয়া যায়নি।”
আপনার মতামত লিখুন :