প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাগলারচর সংঘর্ষে নিহত ৬, শামছুর মরদেহ উদ্ধার, ৩০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া :
উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ও সুখচর ইউনিয়ন সংলগ্ন মেঘনা নদীর জাগলারচরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। সংঘর্ষের পর নিখোঁজ থাকা শামছু বাহিনীর প্রধান মো. শামছুদ্দিন ওরফে শামছু (৫৮) এর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার মধ্য দিয়ে এই সংখ্যা নিশ্চিত হয়েছে।
এই ঘটনায় ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহত মোবারক হোসেন সিহাবের চাচা ও শামছুর ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে হাতিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর–২১।

মামলার বাদী আবুল বাশার জানান, সংঘর্ষে তার ভাতিজা মোবারক হোসেন সিহাব নিহত হন। লাশ উদ্ধার, ময়নাতদন্ত ও দাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় মামলা দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয়।

নিহত সিহাবের মা ও শামছু প্রধানের স্ত্রী মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “স্থানীয় কিছু লোক আমার স্বামীকে চরে জমি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। এরপর আর তাকে ফেরত দেয়নি। বিষয়টি জানতে পেরে পরদিন আমার ছেলে শিহাব তার বাবাকে ফিরিয়ে আনতে জাগলারচরে যায়। কিন্তু সে আর জীবিত ফিরে আসেনি।”

শামছুর বড় ছেলে ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেরেছি, এখনও সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে মহড়া দিচ্ছে। অথচ প্রশাসন আমার বাবার লাশ উদ্ধার কিংবা ঘটনার মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

তিনি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে জাগলারচর দখলকে কেন্দ্র করে শামছু গ্রুপ ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ব্যাপক সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। সংঘর্ষের পর থেকেই শামছু প্রধান নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনের ভেতর থেকে শামছু প্রধানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহতরা হলেন সুখচর ইউনিয়নের চর আমান উল্যাহ গ্রামের মো. মহিউদ্দিনের ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৩৬) জাহাজমারা ইউনিয়নের পাইকবাধা এলাকার মো. শামছুদ্দিনের ছেলে মো. মোবারক হোসেন সিহাব (২১) হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম লক্ষিদিয়া গ্রামের মৃত শাহী আলমের ছেলে হক সাব (৫৫) চানন্দী ইউনিয়নের মান্নান নগর এলাকার মৃত সেকুর ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৮) সুবর্ণচর উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মজিদ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আবুল কাশেম (৫৭) জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শামছুদ্দিন ওরফে শামছু (৫৮) আহতদের মধ্যে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের ছেলে মো. সোহরাব (২৫) হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা নোয়াখালী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন,নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর