
নুশরাত রুমু, মাইজদী :
জেলার প্রাচীন ও গর্বিত বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক চাকরি জীবন শেষে অবসরে গেলেন। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তাঁর কর্মময় জীবনের শেষ কর্ম দিবস। তিনি ১৯৯১ সালে নোয়াখালী জিলা স্কুলে যোগদান করেন। ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে ৩৩ বছর ৫ মাস ৬ দিন নোয়াখালী জিলা স্কুলে কর্মরত ছিলেন। তিন দশকের বেশি সময় এই স্কুলে থাকায় তাঁর রয়েছে অসংখ্য ছাত্র। এদের মধ্যে কর্মকর্তা থেকে সচিব পর্যন্ত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেকে অধিষ্ঠিত হয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে আছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক। মেয়ে বর্তমানে ডাক্তার এবং ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ সালে নতুন প্রধান শিক্ষক স্কুলের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। দীর্ঘ সময় একই স্কুলে শিক্ষকতা করার কারণে তাঁর যেমন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী, গুণগ্রাহী রয়েছে তেমনি পেশাগত দুর্নীতির অভিযোগ করে তাকে দোষারোপের গুঞ্জনও শোনা যায়।
দৈনিক নোয়াখালীর কথা থেকে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তার জবাব দেন। প্রথমত স্কুলের পুকুরের মাছ বিক্রির অভিযোগে তিনি বলেন এই পুকুর তো নির্দিষ্ট লোককে লিজ দেওয়া আছে। আমি কখনো এসবের কাছেও যাই না। পুরাতন ভবনের সিলিং ফ্যান, দরজা, জানালা অন্যান্য মালামাল সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। সেটা আমি আত্মসাৎ করার সুযোগ নেই। ফেনীর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম হাজারির দ্বারা তদবিরে প্রধান শিক্ষক হবার বিষয়ে তিনি বলেন, পদায়ন হবার জন্য যোগ্যতা লাগে। নিজাম হাজারির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, তাকে আমি চিনিও না।
এছাড়া অভিনেতা ও ডাক্তার এজাজের বেয়াই পরিচয়ের সত্যতা জানিয়ে তিনি বলেন ডাক্তার এজাজ আমার মেয়ের শ্বশুর। বিয়ের সময় দেখা হয়েছিল। এটা তো ব্যক্তিগত সম্পর্ক। একজন জনপ্রিয় শিল্পী আমার বেয়াই। এটা গর্বের বিষয় কিন্তু এ নিয়ে পেশাগত জীবনে দাপট দেখানোর মত কিছু নেই। আমি সবসময় মাথা উঁচু করে চলেছি। এমনকি ২৪ এর আন্দোলনেও ছাত্ররা রাস্তায় যখন সবাইকে আটকালো তখন কেবল আমাকে যাবার জায়গা করে দিয়েছিল। রাজনৈতিক দলকানা থাকলে এই সম্মান পেতাম না। আসলে আমি ভর্তির ক্ষেত্রে ও অন্যান্য কিছু কাজে কারও কারও অনৈতিক কাজে সমর্থন দিইনি সেজন্যই এরা এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা প্রচার করছে। এগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও আমাকে ছোট করার জন্য করা হচ্ছে। কর্মজীবনের শেষে এসে এমন কথা শুনতে হবে ভাবিনি। এই স্কুল থেকেই আমার চাকরি শেষ। আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল। অভিভাবকসহ সমাজের সকলের প্রতি সালাম জানাই। অবসর জীবনে সুস্থতার জন্য সকলে দোয়া করবেন। আর সত্য জানতে আসার জন্য আপনাদেরও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
আপনার মতামত লিখুন :