
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
সোনাইমুড়ীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে একই রাতে পৃথক তিনটি স্থানে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার উত্তর মির্জানগর ও বারগাঁও ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনটি পরিবারের আসবাবপত্র, ঘর ও গো-খাদ্য পুড়ে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে উত্তর মির্জানগর এলাকায় হাসেন মিয়ার নবনির্মিত বসতঘরে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঘরে থাকা ধান, মূল্যবান আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হাসেন মিয়া দাবি করেন, আগুনে তাঁর প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে।
একই রাতে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বারগাঁও ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোস্তফা মিস্ত্রির বাড়িতেও আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে ওই পরিবারের প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়। এছাড়া একই ওয়ার্ডের সালাম হাজীর বাড়িতে বিসমিল্লাহ মিয়ার গো-খাদ্যের স্তূপে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। গভীর রাতে একের পর এক আগুনের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানমালের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
এদিকে একই রাতে তিন স্থানে আগুনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে সাধারণ মানুষের জানমালের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কবির হোসেন বলেন, এ এটি নাশকতামূলক কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :