
নোয়াখালী প্রাচীনতম জেলা হলেও উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়নের স্রোতধারায় পৌছানোর লক্ষ্যে দেশের বৃহত্তর অঞ্চল নিয়ে গঠিত প্রধান প্রধান জেলা শহরের মধ্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য, আয়তন, লোকসংখ্যা, ভাষাগত সম্পর্ক ইত্যাদি বিবেচনা করে কয়েকটি বিভাগ গঠনের জন্য সরকার পরিকল্পনা হাতে নেয়। সে লক্ষ্যে পূর্বের বিভাগগুলোর সাথে ১৯৯৪ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে বরিশাল ও সিলেটকে বিভাগ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের ৭নং বিভাগীয় শহরের অন্যতম দাবীদার ছিল নোয়াখালী, ২০১৩ সালে রংপুরকে ঘোষনা দেয়ায় আমরা বঞ্চিত ত্ত ২০১৫ সালে ময়মসিংহ। আয়তন, লোকসংখ্যা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ছাড়াও ভাষাগত মিলের দিক থেকে যে কোন নিরপেক্ষ, সুচিন্তিত ও বিজ্ঞ বিবেচনায় নোয়াখালী একটি আদর্শ বিভাগ হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
সে লক্ষ্যে বর্তমান নোয়াখালী জেলার সাথে লক্ষীপুর ও ফেনী জেলা সমন¦য়ে নোয়াখালী প্রশাসনিক বিভাগে পরিণত করতে মুশফিক কমিটি মন্ত্রীপরিষদের কাছে একটি সুপারিশ পেশ করেছিল। মুশফিক কমিটির সে রিপোর্টকে বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এটি আজ বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে। তাই বৃহত্তর নোয়াখালী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, মিরসরাই, সন্ধীপকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ করা যেতে পারে, নোয়াখালী বিভাগীয় সদর চৌমহানী চৌরাস্তায়। কারণ নোয়াখালী আঞ্চলিক ভাষা এবং নোয়াখ্যাইল্লা কালচার বা বিশেষ জীবনযাপন পদ্ধতি, সংস্কৃতি নোয়াখালীর প্রশাসনিক সীমানার বাইরেও প্রসারিত হয়েছে; ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর ও হাতিয়া তথা বৃহত্তর নোয়াখালী সীমানার বাইরেও দক্ষিণ ও পূর্বদিকে বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড (উত্তর), মিরসরাই, সন্দ্বীপ, পূর্বদিকে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড়, কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ), লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, লালমাই। চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ, শাহরাস্তি, মতলব (দক্ষিণ), ফরিদগঞ্জ, হাইমচর, পশ্চিমদিকে ভোলা জেলার উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল এবং মনপুরাদ্বীপের এই বিশাল অঞ্চল নিয়ে নোয়াখালী আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতি-অঞ্চল গঠিত। এই অঞ্চলের মানুষের জীপনযাপন পদ্ধতি, আঞ্চলিক ভাষা (নোয়াখাইল্যা কলোকেল ডায়লেক্ট), সংস্কৃতি, ভাব প্রকাশে শ্লেষ, রসিকতা, রন্ধন ও ভোজন প্রক্রিয়া, প্রবাদ বচন, উপদেশাবালী, অভিব্যক্তি সবকিছুই কম বেশি একরকম। ভাষা ও বক্তব্য প্রকাশের সময় তাদের তাৎক্ষণাৎ চিনে ফেলতে অসুবিধা হয় না।
তাৎক্ষণিকভাবেই দু’জন অপরিচিত মানুষ হঠাৎ পরিচিতজন হয়ে যায়। জীবনযাপনের এই বৈশিষ্ট্যকে অনেকেই নোয়াখালী কালচার বা সংস্কৃতি নামে অভিহিত করেন, এজন্য নোয়াখালী-আঞ্চলিক ভাষাভাষী বিশাল অঞ্চল নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ গঠন বাস্তবায়িত হলে তা হবে দ্রুত উন্নয়নের একটি আদর্শ বিভাগ বা মডেল। তাই এ ব্যাপাওে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহৃদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ।
মোঃ গিয়াস উদ্দিন হৃদয়
অর্থ সম্পাদক
নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্নয় কমিটি, ঢাকা।
আপনার মতামত লিখুন :