প্রকাশিত: ৩১ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৩১ মার্চ, ২০২৬

কোম্পানীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ দম্পতির ওপর সন্ত্রাসী হামলা

উপজেলা প্রতিনিধি, ​কোম্পানীগঞ্জ :
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধ দম্পতিসহ পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে উপজেলার চরফকিরা গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের তবারক আলী মাস্টার বাড়িতে। অভিযোগ রয়েছে, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে বসতঘরে ভাঙচুর, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ সেলিম উল্যাহ (৭০) এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কোম্পানীগঞ্জ থানায় ৯ জনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিম উল্যাহর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অভিযুক্ত নিখাদ (২৫), ইয়ামিন (১৮), ইয়াছিন (৩৬)সহ ৯ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে এবং উঠানের মাটি কাটা শুরু করে।

এ সময় বাধা দিলে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম উল্যাহকে কোদাল, লোহার রড ও সাবল দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এমনকি তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ।

হামলার সময় তার স্ত্রী ছকিনা খাতুন (৫৫) ও জামাতা মোঃ শাহাজান এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছকিনা খাতুনের শ্লীলতাহানি করা হয় এবং তার গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বসতঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, এটি বাড়ির দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা। সেলিম উল্যাহ জোরপূর্বক রাস্তায় মাটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। মাটি সরাতে বলা হলেও তিনি তা সরাননি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিমল কর্মকার বলেন, “উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি।”

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর