প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৫ এপ্রিল, ২০২৬

বঙ্গাব্দ: একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার – তারিক আজিজ পিঞ্জর

বাংলা সন, যা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে পরিচিত। যা একটি পঞ্জিকা পদ্ধতির অধিক। এটি বাঙালি সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল প্রতিফলন।বাংলাদেশে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ‘বাংলা পঞ্জিকা’ কৃষি,উৎসব এবং দৈনন্দিন জীবনে আবহমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বাংলা সনের উৎপত্তি প্রায়শঃ চিহ্নিত হয় মুঘল যুগ থেকে, বিশেষতঃ ষোড়শ শতাব্দীর সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, সম্রাট আকবর কৃষকদের কাছ থেকে কর সংগ্রহের সুবিধার্থে চন্দ্রপঞ্জিকা ও সৌর কৃষি চক্রের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সংশোধিত পঞ্জিকার প্রচলন শুরু করেন।সময়ের বিবর্তনে ক্যালেন্ডারটি আজকের পরিচিত ‘বাংলা পঞ্জিকা’য় বিবর্তিত হয়। বাংলা বছর বৈশাখের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ দিয়ে শুরু হয়। যা খ্রিস্টাব্দের ১৪ বা ১৫ এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়। দিনটি মহা উৎসব ও উদ্দীপনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়। বাঙালি সম্প্রদায় এ দিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান, উৎসবের খাবার এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেমন-মেলা, সংগীতানুষ্ঠান এবং শোভা যাত্রার মধ্য দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করে। ব্যবসায়ীরা দিনটিতে নবায়ন এবং সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে নতুন হিসাবের খাতা ব্যবহার শুরু করে। যার সাংস্কৃতিক নাম ‘হালখাতা’।

বাংলা বর্ষ বারো মাসের সমন্বয়ে গঠিত। যার প্রত্যেকের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক ও কৃষিজ কার্যকলাপের ছন্দগত নিবিড় সম্পর্ক। উদাহরণস্বরূপ, ভাদ্র-আশ্বিন দুই মাস মৌসুমী বৃষ্টিবহুল। অন্যদিকে,পৌষ-মাঘ শীতকালীন ফসল কাটার সময়। পঞ্জিকা এবং প্রকৃতির দৃঢ় সম্পর্ক বাঙালি সমাজের কৃষিভিত্তিক মৌলিকতাকে বিশেষভাবে নির্দেশ করে। বাংলা বর্ষের উৎসবসমূহ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে গভীরভাবে বদ্ধমূল।

নবান্ন কিংবা দুর্গাপূজার মতো উৎসবসমূহ বাংলা পঞ্জিকাকে অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়কে আনন্দ এবং ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে। এই উপলক্ষসমূহ শুধুমাত্র সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে না বরং  অঞ্চলটির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও রক্ষা করে। আধুনিক সময়ে যদিও ইংরেজি পঞ্জিকা ব্যাপকভাবে দাপ্তরিক এবং আন্তর্জাতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়,বাংলা বর্ষ এর ভাবগত ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে স্বকীয়তার  সাথে বহন করে চলছে। এটি সারা পৃথিবীতে বাঙালি সম্প্রদায়ের পরিচয়,ঐতিহ্য এবং ধারাবাহিকতার স্মরণিকা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলা নববর্ষ কেবল সময় গণনার পদ্ধতিই নয় বরং এটি হচ্ছে একটি জীবন্ত ঐতিহ্য যা বাঙালিসাধারণের স্পৃহা, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক ঐশ্বর্যকে মূর্ত করে। এটির বহমান প্রাসঙ্গিকতা সমসাময়িক সমাজে পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সাংস্কৃতিক মূলের স্থায়ী গুরুত্বকে দৃষ্টিগোচর করে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর