প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ এপ্রিল, ২০২৬

তেলের জন্য কিলোমিটারজুড়ে লাইন, কিশোরদের ভিড়ে নাজেহাল কর্মজীবীরা

মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার :
জ্বালানি তেলের চলমান সংকটে সোনাইমুড়ীতে তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। সীমিত সরবরাহের কারণে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চিত্র এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। তবে সেই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে উঠতি বয়সী কিশোর ও শৌখিন বাইকারদের ভিড় এমন অভিযোগ করেছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীরা।

উপজেলার আয়েশা ও হোসেন ফিলিং স্টেশনে সপ্তাহে মাত্র একদিন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহের দিন দুপুরের পর পুলিশি তত্ত্বাবধানে বিক্রি শুরু হলেও ভোর থেকেই সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মোটরসাইকেলের সারি দেখা যায়। এতে সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহনগুলোকেও একই লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, লাইনে দাঁড়ানোদের বড় অংশই কিশোর ও তরুণ। অনেকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম। এমনকি ১২-১৪ বছর বয়সী কিশোরদেরও মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের লাইনে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ মোটরসাইকেলের ট্যাংক থেকে বোতলে তেল সংরক্ষণ করে পরে বিক্রি করছেন যা সংকটকে আরও তীব্র করছে।

পেশাজীবীরা বলছেন, এই অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারাই, যাদের কাজের জন্য মোটরসাইকেল অপরিহার্য। স্টেডফাস্ট কুরিয়ারের ডেলিভারিম্যান সোহাগ বলেন, দুপুরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, সন্ধ্যা হয়ে গেল এখনো সামনে অসংখ্য বাইক। যাদের অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া এসেছে। ব্র্যাক কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম জানান, গত কয়েকদিন ধরে তেলের অভাবে মাঠপর্যায়ের কাজ করতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো ভাড়ার যানবাহনে যেতে হচ্ছে।
পশুচিকিৎসক মোশাররফ ইসলাম বলেন, গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় রোগাক্রান্ত পশুর চিকিৎসায় দ্রুত পৌঁছানো জরুরি। কিন্তু তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিশোর একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে। এতে করে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেকে তেল পাচ্ছেন না। হোসেন ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. হোসেন বলেন, ১১ দিন পর সীমিত পরিমাণ তেল পেয়েছি। প্রতিটি মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। আলাদা করে পেশাজীবীদের জন্য কোনো নির্দেশনা নেই।
এ অবস্থায় সচেতন মহল বলছে, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে পেশাজীবীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ, লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র যাচাই, এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ না আনলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে সংকটের সময়ে শখ নাকি প্রয়োজন কোনটি অগ্রাধিকার পাবে? এর সঠিক সমাধানেই নির্ভর করছে সোনাইমুড়ীর জনজীবনের স্বাভাবিক গতি ফিরবে কিনা।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর