
স্টাফ রিপোর্টার :
বেগমগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মি গুলিবিদ্ধ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হয়।
সোমবার ২৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ শাকিল উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রামেশ্বপুর গ্রামের পাটোয়ারি বাড়ির আলমগীরের ছেলে। তিনি একই ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। অপর দিকে আহতরা হলেন, মো.আলাউদ্দিন (৫০), মহর আলী (৫৯) তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০), ছেলে মাহফুজুর রহমান (২২) মেয়ে নাসরিন আক্তার (১৮) আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছয়ানী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বিএনপি কর্মি মাসুদের ছেলে ইমন (১৯) আরেক বিএনপি কর্মি মাহফুজকে মারধর করে। সোমবার বিকেল ৫টার সময় ইমন ছয়ানী বাজারে নব গঠিত কৃষকদলের আনন্দ মিছিলে যাচ্ছিলো। ওই সময় মাহফুজ নিরবকে পেয়ে মারধর করে। মিছিল শেষে বিকেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ৯টার সময় ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন দলীয় লোকজন নিয়ে তাহেরপুর এলাকায় যান। একপর্যায়ে সেখানে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংষর্ঘ বেধে যায়। এতে দুই পক্ষের ৮জন আহত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, মাহফুজ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার বাবা মহর আলী জামায়াত করে। মাহফুজদের বাড়ির অধিকাংশ লোক জামায়াত রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিএনপির নেতাকর্মিরা রাত সোয়া ৯টার সময় মাহফুজের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে যুবদল কর্মি শাকিল পাটেয়ারির বুকের বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হন ও আলাউদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। তখন মহর আলীর ৬ অনুসারীও আহত হয়। তাৎক্ষণিক স্থানীয়রা শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।
ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো.আলাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে মহর আলীসহ তার লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। ওই সময় স্থানীয় রাকিব নামে এক যুবক আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়।
জানতে চাইলে রাকিব বলেন, তিনি পেশায় একজন পিকআপ ভ্যান চালক। তিনি কাউকে গুলি করেননি। অভিযোগটি ডাহা মিথ্যা। বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের গুলি মিস ফায়ার হলে শাকিল গুলিবিদ্ধ হন। তখন রাজু মেম্বারকেও আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যায়।
ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এখানে জামায়াত বিএনপির কোন সংঘর্ষ হয়নি। জামায়াতের লোকজন আমাদের মিছিলের ওপর হামলা করেছে। আমাদের দলীয় কোন কোন্দলের কোনো বিষয় নেই এখানে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটা বিএনপি-বিএনপি করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মিরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমাদের দলের কোন লোক এই হামলার সাথে জড়িত নেই।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :