প্রকাশিত: ৭ মে, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৭ মে, ২০২৬

মৃধারহাট তহশীল অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, সদর : সদর উপজেলার ১১ নম্বর নেয়াজপুর ইউনিয়নের মৃধারহাট তহশীল অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমা-খারিজ, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরকারি নির্ধারিত ফি থাকলেও কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এমনকি জমা-খারিজ শেষে হোল্ডিং নম্বর চালুর ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মিজান ও রফিক অভিযোগ করে বলেন, “জমা-খারিজ করার পর হোল্ডিং নম্বর চালুর জন্য ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে খাজনা দেওয়ার আবেদন করতেও আবার টাকা দাবি করা হলে আমরা বাধ্য হয়ে দাখিলা না নিয়েই ফিরে আসি।”

এছাড়া অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের পরও যথাযথ রশিদ প্রদান না করার অভিযোগ রয়েছে। রশিদ চাইলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন এবং সন্ধ্যার পর অফিসে আসেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চৌমুহনীতে পাঁচতলা ভবনসহ নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন মুজিবুল হক। এছাড়া নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রেখেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল হাতিয়া উপজেলার চর হরিণী-চানন্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিসেও একই ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সেখানে কর্মরত অবস্থায়ও তিনি অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, অতীতে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে তিনি কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন। এদিকে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৪১৫ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নোয়াখালী জেলা কার্যালয় প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। পরবর্তীতে দুদক আইনের ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদনের জন্য বিষয়টি ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মুজিবুল হকের বক্তব্য জানতে মৃধারহাট ভূমি অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর