• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৯ জুন, ২০২৬

এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির সতর্কবার্তা

কুমিল্লায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে এইচআইভি সংক্রমণে সাতজনের মৃত্যু এবং ৩৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য সতর্কসংকেত বহন করছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে এইচআইভি শনাক্তের হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালে ২২৬টি পরীক্ষায় ১৫ জন আক্রান্ত শনাক্ত হলেও ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৪২টি পরীক্ষায় ৭২ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়। চলতি বছরের মাত্র পাঁচ মাসেই ৩৭ জন আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ায় বছর শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো সংক্রমণের ধরনে পরিবর্তন। বর্তমানে অধিকাংশ নতুন সংক্রমণ যৌনবাহিত। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি। পাশাপাশি যৌনকর্মী, প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং সংক্রমিত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এতে স্পষ্ট যে, এইচআইভি আর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের বিভিন্ন স্তরই এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এইচআইভি সম্পর্কে সামাজিক কুসংস্কার, লজ্জা ও গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেকেই সংক্রমণের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা করাতে অনীহা দেখান। ফলে রোগ দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা শুরু করতে বিলম্ব ঘটে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

তবে আশার বিষয়, আধুনিক অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসার ফলে এইচআইভি এখন আর অনিবার্য মৃত্যুদণ্ড নয়। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। সরকার বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ সরবরাহ করছে, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এর সুফল নিশ্চিত করতে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।

এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করে পরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এইচআইভি মোকাবিলায় ভয় ও সামাজিক কলঙ্ক নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর