প্রকাশিত: ৮ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮ জুলাই, ২০২৬

চৌধুরীহাট ডিগ্রি কলেজে বিধি ভেঙে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অভিযোগ

উপজেলা সংবাদদাতা, কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চৌধুরীহাট ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে ঘিরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও জ্যেষ্ঠতার নীতি উপেক্ষা করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলেছেন কলেজের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সদস্য ও স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম খান একক সিদ্ধান্তে তুলনামূলক জুনিয়র শিক্ষক শাহ আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ঘটনায় শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে গভর্নিং বডির পূর্বনির্ধারিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ। অভিযোগ অনুযায়ী, সভায় উপস্থিত কয়েকজন সদস্য জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে সভাপতি নিজের সিদ্ধান্তে শাহ আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি খালেস সাইফুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, “গভর্নিং বডির যথাযথ সিদ্ধান্ত ও শিক্ষকদের মতামত ছাড়াই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এরপর রাতের আঁধারে কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ডেকে এনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খোলানো হয়। সেখান থেকে কলেজের অফিসিয়াল প্যাডসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও রহস্যজনক।”

তিনি আরও বলেন, বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য কবির আহমেদ বলেন, “সভাপতি কাউকে না জানিয়ে নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কমিটির সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”

একই অভিযোগ করেন গভর্নিং বডির হিতৈষী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম। তাঁর ভাষ্য, “নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা পর্ষদের নিয়ম ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে হয়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অন্যদিকে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ ও অফিস কক্ষের তালা খোলার ঘটনায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর