
মোহাম্মদ হানিফ, স্টাফ রিপোর্টার : সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীকে ‘নথি চোর’ বলে গালমন্দ করে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর জমির নামজারি সংক্রান্ত আপত্তির শুনানি না করে আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
গত ৬ আগস্ট সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মোশারফ হোসেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মোশারফ হোসেন জানান, তিনি স্থানীয় নদনা বাজার মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দক্ষিণ শাকতলা মৌজার ৩৯১৮ নম্বর দাগের ১১ শতাংশ নাল জমি তাঁর মালিকানাধীন। ওই জমি তাঁর চাচাতো বোন সেতারা বেগম গং উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি করে নেন। এর বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট তিনি আপত্তি আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের নম্বর ১০৬।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ আগস্ট ওই আপত্তির শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সেদিন সকাল ১০টার দিকে মোশারফ হোসেন ভূমি অফিসে উপস্থিত হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। কিন্তু শুনানি না হওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে যান।
পরে ৬ আগস্ট পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করা হলে তিনি উপজেলা ভূমি অফিসে যান। এ সময় অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর আপত্তির নথি খুঁজে পাননি। পরে তাঁকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দীনের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
মোশারফের অভিযোগ, নথিটি পাওয়া না যাওয়ায় এসিল্যান্ড তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘নথি চোর’ বলে আখ্যায়িত করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। অথচ অযথা আমার সঙ্গে রাগারাগি করে আমাকে নথি চোর বলা হয়েছে। আমার আপত্তির যথাযথ শুনানিও করা হয়নি। বরং আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে বলা হয়েছে—আদালতে যান, এখানে কোনো সেবা পাবেন না।”
এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, “আপত্তির নথি খুঁজে না পাওয়ায় এসিল্যান্ড স্যার রাগ করেছিলেন।”
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ীর দলিল লেখক মোহাম্মদ উল্লাহ অভিযোগ করেন, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট অঙ্কের ঘুষ না দিলে অনেক সময় নথি খুঁজে পাওয়া যায় না। তাঁর দাবি, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে এসিল্যান্ড প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। তবে দলিল লেখকের এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসীম উদ্দীনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নথি হারানো বা খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :