প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাখরাবাদ গ্যাসের লিকেজ সারানোর নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট! জড়িত অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

খোরশেদ আলম, বিশেষ প্রতিবেদক : জেলাজুড়ে চলছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও বর্ধিত চুলার রমরমা বাণিজ্য। আবার গ্যাসের লাইনের লিকেজ সারানোর নামে ঠিকাদার ও অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের জেলার ঠিকাদার দিপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান, মনির ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন সিন্ডিকেট গ্রাহকদের হযরানি করছে।

সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এ প্রতিবেদকের কাছে ফোন করে ও সরাসরি যোগাযোগ করে অনিয়মের বিভিন্ন বর্ণনা দেন। আর এসব অভিযোগ বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী ও চাটখিল উপজেলার গ্যাসের শতাধিক গ্রাহকদের।

অপরদিকে, গ্যাস অফিসের নিয়োগ নিয়োগকৃত ঠিকাদাররা গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়ায় ঠিকাদার মনিরকে উত্তম মধ্যম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, জেলার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অসাধু ঠিকাদার ও অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গ্যাসের লাইনের নিকেজের অজুহাতে রাইজার খুলে নিয়ে যায়। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে না হতেই টাকার বিনিময়ে মিলছে এসব সংযোগ। আবার একই সঙ্গে চলছে চুলা বর্ধিত করণের হিড়িকও যেন এক ধরনের চোর পুলিশ খেলা।

এ সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে কথিত একটি ঠিকাদার চক্রের সঙ্গে জড়িত আছেন কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। গ্যাসের লাইনে লিকেজের প্রায় প্রতি সপ্তাহেই অভিযান পরিচালনা করে বিতরণ সংস্থা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।এসময় খুলে নিয়ে আসা হয় গ্যাস সংযোগ পাইপ লাইন, রাইজারসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জিনিসপত্র। কিন্তু টাকা দিলেই সকালে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে রাতেই গ্যাস ব্যবহারকারীরা আবার সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন।

সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার পাপুয়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের লাইনের পাইপে মরিচা ধরেছে। আবার কারো কাছে বলছে রাইজারে জয়েন্টে গ্যাস বের হচ্ছে। এগুলো বলে সহজ সরল লোকদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার জানামতে ওই গ্রামের এক পরিবার থেকে বিনা রশিদে ৫০ হাজারের বেশি নিয়েছে।লিখেজ সারানোর নামে পৌর এলাকার পাপুয়া গ্রামের বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রায় শতাধিক গ্রাহক থেকে লাখ লাখ টাকা হাতি নিয়েছে এই সিন্ডিকেট।

সোনাইমুড়ীর কৌশল্যাবাগ গ্রামের হানিফুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, লিকেজ সারানোর নামে প্রতি বাড়ি হতে ১০ হাজার ১৫ হাজার করে টাকা নিয়েছে।তার বাসা থেকেও গ্যাসের লাইনের সমস্যা দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। নোয়াখালী গ্যাস অফিসের কর্মচারীরা এই কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে। সিন্ডিকেটের অন্যতম হতা হচ্ছে ঠিকাদার দিপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান, মনির ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন।

বজরা ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের জয়নুল আবেদিন অভিযোগ করে জানান,ওই গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবারের গ্যাস লাইনের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে অফিসের লোকজন এসে রাইজার খুলে নেয়। পরে ঠিকাদারদের সিন্ডিকেটের হোতা শাহজাহান ও মনির হোসেন এসে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। ওই টাকার অংশ অফিসের লোকজনকে দিতে হবে বললে জানান। পরে গ্রাহকরা নিরুপায় হয়ে টাকা দিলেই সংযোগ দেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের গ্রাহক আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, তার বাসায় একটি রাইজার ও দুটি চুলা রয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জেলা অফিসের অসাধু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দিপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকার শাহজাহান তার বাসা থেকে গ্যাসের রাইজার খুলে নেয়।পরে ১৫ হাজার টাকা দিলে পুনরায় সংযোগ দেয়। সংযোগ দিতেও ৫০০ টাকা নিয়েছে।ওই ঠিকাদার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ দেয়ার অজুহাতে এই টাকা নিয়েছে।

সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের ঠাকুর বাড়ির সামনে চা দোকানদার হানিফ অভিযোগ করে বলেন, তার একটি চুলার অনুমোদন রয়েছে। সে দুটি চুলা জ্বালিয়ে আসছে। গ্যাস অফিসের অসাধু কর্মকর্তার নির্দেশে তার রাইজার খুলে নেয়া হয়। ৩০ হাজার টাকার রফা দফার পর পুনরায় সংযোগ দেয়া হয়।

সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের সুমন অভিযোগ করে বলেন, তার বাসায় নোয়াখালী গ্যাস অফিসের লোকজন গিয়ে লাইনের লিকেজের অজুহাতে রাইজার খুলে নেন। পরে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন। নোয়াখালী গ্যাস অফিসের লোকজন ঠিকাদার শাহজাহান ও মনিরের মাধ্যমে টাকা নিয়ে থাকেন। তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে।

উপজেলার বগাদিয়া গ্রামের গ্রাহক হাবিবুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, জেলা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাথে করে ঠিকাদার নিয়ে আসেন। তাদের মাধ্যমে গ্যাসের ত্রুটির অজুহাতে রাইজার খুলে নেন।পরে দর কষাকষির একপর্যায়ে মোটা অংকের চুক্তি করে টাকা হাতিয়ে নেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনির ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মনির হোসেন বলেন,গ্যাস লাইনের সমস্যা দেখে অফিসের লোকজন রাইজার খুলে নেয়। পরের টাকা নিয়ে লাইনের সমস্যা সমাধান করলে পুনরায় সংযোগ দেয়া হয়।

দিপু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার শাহাজাহান মুঠোফোনে বলেন,লিখেজ মেরামতে মালামাল ক্রয় ও মজুরি বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেন। তবে অতিরিক্ত কোন টাকা নেন না।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জেলা অফিসের ডিজিএম শাহ আলম বলেন, গ্যাস কোম্পানির নিজস্ব লোকজন রয়েছে। তারাই লিকেজ সনাক্ত করেন। তবে গ্রাহকরা টাকা দিয়েই ঠিকাদারদের মাধ্যমে নিকেজ সারিয়ে থাকেন। অফিসের কোন কর্মকর্তা কর্মচারী কোন টাকা নেন না বলে দাবি করেন।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর