প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : ২২ ডিসেম্বর, ২০২৩

বেগমগঞ্জে স্মৃতি খুনের ১৪ দিনেও আসামী অধরা

উপজেলা প্রতিনিধি, বেগমগঞ্জ : বেগমগঞ্জে দিন-দুপুরে যুবতী খুনের ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাতকরা গ্রেপ্তার হয়নি। গত ৬ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ থানায় এই ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় একটি মামলা করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি পুলিশ অজ্ঞাত কারনে হত্যা মামলা না নিয়ে মনগড়া এজাহার লিখে এনে স্বাক্ষর নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা নেয়।

এই ঘটনায় পুলিশের সহযোগীতা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে গত ১৯ ডিসেম্বর বেগমগঞ্জ তিন নং আমলী আদালতে নিহতের ছোট ভাই রনি চন্দ্র কুরি(২৫) বাদি হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামের সমির চন্দ্র দাশ (৪৮)কে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া আরও ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা যায়, তার দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে স্মৃতি রানি কুরি(২৭) সবার বড়। তার মেয়েই প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করে সংসার চালাতেন। পাশাপাশি সে নোয়াখালী কলেজে ডিগ্রীতে অধ্যায়নরত ছিলো। সংসার ও লেখাপড়া চালাতে হিমশিম পোহাচ্ছিলেন। ২০২২ সালে বজরা ইউনিয়নের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সহকারী প্যাথলজিষ্ট পদে চাকরি নেন।

সেখানে চাকরির সুবাদে প্রতিষ্ঠানটির মালিক সমির চন্দ্র দাশের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও মেয়েটির আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগ নেয়। একপর্যায়ে সম্পর্কটি প্রেমের সম্পর্কে রুপ নেয়। পরে স্মৃতিকে পার্শবর্তী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলিপুর নামক স্থানের ল্যাবএইড হাসপাতালের রিপোর্ট কাউন্টারে চাকরি নিয়ে দেয় সমির। তাকে থাকার জন্য ওই এলাকার ডাক্তার পাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে দেয়। ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত সহ বাসার চাবিও ছিলো সমিরের কাছে।

নিহতের বৃদ্ধ পিতা হিমাংশু রঞ্জন কুরি (৬২) জানান, সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা গ্রামের গোপাল চন্দ্র দাশের ছেলে দুই সন্তানের জনক সমির চন্দ্র দাশ আমার মেয়েকে তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে। আমি বাঁধা দিলে আমাকে হুমকি দেয়। আমার প্রাণ ভয়ে কাওকে বলতে সাহস পায়নি। ঘটনার দিন বিকালে মেয়েকে দেখতে ভাড়া বাসার তালা খুললে স্মৃতিকে রুমের ফ্লোরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তবে পুলিশ অদৃশ্য কারনে হত্যা মামলা না নিয়ে মনগড়া এজাহারের ওপর স্বাক্ষর নেয়।

নিহতের ছোট ভাই রনি চন্দ্র কুরি জানান, তার বোনের সাথে প্রতারণা করে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী করে সমির। আমাদের পরিবারের কেউ বিষয়টি জানতাম না। আমার বোন তিন মাসের অন্ত:সত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। ধামাচাপা দিতে আমার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে।

নিহতের ভাইয়ের স্ত্রী মনি রানী কুরি অভিযোগ করে জানান, স্মৃতিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সমির। পরে সে তিন মাসের অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে কয়েকজন মিলে পরিকল্পিত ভাবে স্টিলের মগ দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মগটি নিহতের পরিবারের কাছে রয়েছে।

বেগমগঞ্জ থানার এস আই শহিদুল ইসলাম ও আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে নিহতের কপালে ও মাথার বাম পাশে আঘাতের চিন্হ পাওয়া যায়। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সমির পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সমিরের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মেয়ে প্রীতি রানী দাশ জানান, তার বাবা সমির জরুরি কাজে ঢাকায় গিয়েছেন। তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর