
আলা-উদ্দীন সুজন, সদর : কোটা সংস্কার আন্দোলনে হতাহতের বিরুদ্ধে আবদুল মালেক উকিল সড়কের মাইজদী বাজার থেকে দুই শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীর পদযাত্রা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হয়ে জেলা জজ আদালত ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা ৩১ জুলাই ১২ টার জেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের জড়ো হতে দেখা যায়। তাদের দাবি কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের ন্যায অধিকার। আমাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি পাখির মত গুলি করে হত্যা করে। এই হত্যার বিচার সহ তাদের ৯দফা দাবি নিয়ে এই শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার সমন্বয়কদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আজকের আন্দোলনকারিদের দাবি গুলো হলো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, হত্যার বিচারসহ ৯ দফা। তাদের দাবির পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারি ছাত্র।
এই সময় জেলা আইনজীবী সমিতির বিএনপিপন্থী আইনজীবীগণ যোগ দিতে চাইলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের বাধা দেয়।
পরে সাধারণ ছাত্ররা জেলা জজ আদালতের সামনে স্মৃতি শৌধে অবস্থান নেয়, সেখানে সাধারণ ছাত্রদের সাথে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক বক্তব্যে বলেন, অবিলম্বে ছাত্রদের উপর গুলি করার তদন্ত করে বিচার করতে হবে, ইন্টারনেট চালু করতে হবে, রাতের বেলা পুলিশের গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে, স্কুল কলেজসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং অবিলম্বে সরকার ক্ষমতা ছেড়ে চলে যেতে হবে, ছাত্রলীগের বিচার করতে হবে, ছাত্রলীগ নামে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার দাবিও জানায় বক্তারা।
এই সময় বৃষ্টি শুরু হলে ছাত্রছাত্রী শিক্ষকরা সভা সমাপ্ত করে এবং নিজ দায়িত্বে চলে যায়। তবে তারা কেউই স্থায়ী সমন্বয়ক নয় বলে জানান, প্রতিদিনই তাদের সমন্বয়ক পরিবর্তন হয়। এই আয়োজনের নেতৃত্বে বেশকিছু মাদ্রাসা ছাত্রছাত্রী এবং জাসাস, জাসদ, বাসদ সহ বিভিন্ন বাম বাম রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য ও নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
আপনার মতামত লিখুন :