
এশিয়ার কাপের সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইফ হাসানের ব্যাটিং ছিল অনেকটা ‘সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস’। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শট না খেলে সোজা ব্যাট চালিয়ে সফলতার শিখরে পৌঁছান তিনি। লঙ্কানদের বিপক্ষে ‘স্মার্ট ক্রিকেট’ উপহার দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন, অবদান রাখেন শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে।
২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২৬ বর্ষী ডানহাতি ব্যাটার জানালেন, তার জাতীয় দলে ফেরার চ্যালেঞ্জ ও এশিয়া কাপে সাফল্যের গল্প।
২০২১ সালের পর জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন সাইফ। দীর্ঘদিন ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করতে থাকেন। সফল হলেও জাতীয় দলের একাদশে সুযোগের পর্যাপ্ত কারণ দেখাতে পারেননি তিনি। কারণ সাইফের ইনিংস ছিল কিছুটা ধীরে ও ধরে চলো নীতির। তবে সেই ‘লং ফরম্যাট ব্যাটার’ তকমা ঝেড়ে এশিয়া কাপে নিজেকে নতুন করে চেনালেন এই স্পিন অলরাউন্ডার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তানজিদ হাসান তামিমের ওপেনিং সঙ্গী ছিলেন সাইফ। এর আগে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সফলতায় দরজা খুলে যায় তার। তাছাড়া তানজিদের নিয়মিত সঙ্গী পারভেজ হোসেন ইমন ব্যর্থতার বৃত্তে আটকা পড়ায় ওপেনিংয়ে সুযোগ মেলে তার।
৪৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস নিয়ে সাইফ বলেন, ‘সাধারণত আমি সোজা ব্যাটে (সোজা উইকেটের দিকে) খেলার চেষ্টা করি এবং স্পিনের সঙ্গে একই দিকে বল পাঠাই-এটাই আমার শক্তির জায়গা।”
অন্য টেস্ট খেলুড়ে ব্যাটারের মতো সাইফও বরাবরই ডাউন দ্য ভি (মিড-অফ থেকে মিড-অন অঞ্চলের মাঝ দিয়ে খেলা) খেলতে পারদর্শী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গুণই তাকে সাদা বলের ক্রিকেটেও সফলতা এনে দিয়েছে। স্পিনারদের ঘূর্ণির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বল খেলতে পারাটা এখন সাইফের বড় একটি অস্ত্র হয়ে উঠেছে-আর আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচেই তিনি সেটা দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন।
সাইফ বলেন, “স্পিন বল মোকাবিলা নিয়ে আমি অনেক দিন ধরেই কাজ করেছি। এখন মনে হয় আমি ঘূর্ণির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে পারি। অনুশীলনটা আমাকে সাহায্য করেছে।”
আপনার মতামত লিখুন :