• ঢাকা
  • সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শ্রীকৃষ্ণ দাশের ধারাভাষ্যে, কোকিলের কণ্ঠে মুগ্ধতার সুর

সাব্বির ইবনে ছিদ্দিক, হাতিয়া : ক্রীড়া আসরে যেমন উত্তেজনা, তেমনি দর্শকদের আবেগের অন্যতম সঙ্গী ধারাভাষ্যকার। মাঠের খেলার রোমাঞ্চকে শব্দে রাঙিয়ে তোলেন তাঁরাই। আর এ ক্ষেত্রে হাতিয়ার তরুণ ধারাভাষ্যকার শ্রীকৃষ্ণ দাশ যেন আলাদা স্বকীয়তায় জায়গা করে নিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে।

শ্রীকৃষ্ণ দাশের কণ্ঠের মিষ্টি ভঙ্গি ও কোকিলের মতো টান মুগ্ধ করে সবাইকে। ক্রিকেট, ফুটবল কিংবা স্থানীয় গ্রামীণ খেলাধুলার মাঠ—যেখানেই মাইক হাতে নেন, সেখানেই দর্শক-শ্রোতাদের দৃষ্টি আটকে যায় তাঁর কথার যাদুতে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের সঙ্গে তাঁর আবেগঘন উপস্থাপনা খেলাকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

১৯৭৯ সালে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের গামছাখালী গ্রামের সনাতন ধর্মীয় পরিবারে জন্ম শ্রীকৃষ দাশের। বাবা জগদীশ চন্দ্র দাস, পেশায় পল্লী চিকিৎসক, মা লীলা বালা দাশ গৃহিণী। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি টান থাকলেও মাইক্রোফোন হাতে তাঁর আলাদা এক জগৎ গড়ে ওঠে।

স্থানীয় তরুণদের অনেকেই জানান, শ্রীকৃষ্ণ দাশের কণ্ঠে খেলার ধারাভাষ্য শুনতে ভিড় করেন তাঁরা। বিশেষ করে গ্রামীণ টুর্নামেন্টগুলোতে তাঁর উপস্থিতি যেন খেলার বাড়তি আকর্ষণ। শ্রীকৃষ্ণ দাশের কণ্ঠে ধারাভাষ্যর টানটান উত্তেজনার মুহূর্তে তাঁর প্রাণবন্ত মন্তব্য দর্শকদের যেন আরও বেশি উজ্জীবিত করে।

স্থানীয় খেলোয়াড় হুমায়ুন রিপাত বলেন, আমি যখন বল নিয়ে আক্রমণভাগে ছুটে যাই আর গোল করার সুযোগ তৈরি হয়, তখন শ্রীকৃষ্ণ দাশের উপস্থাপনায় ।
মনে হয় শুধু আমি নই, পুরো মাঠটাই যেন প্রাণ ফিরে পায়। বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণ দাশের উচ্ছ্বাসভরা ধারাভাষ্য আমার ভেতরের খেলাটাকে আরও রঙিন ও উদযাপিত করে তোলে, যা খেলায় আলাদা অনুপ্রেরণা যোগায়।

আর ও খেলোয়াড়রা জানান যখন আমরা বল নিয়ে আক্রমণভাগে ছুটে যান এবং গোলের সুযোগ তৈরি হয়, তখন শ্রীকৃষ্ণ দাশের ধারাভাষ্য যেন পুরো মাঠকে জীবন দেয়। শ্রীকৃষ দাশের উচ্ছ্বাস ও উত্তেজনাপূর্ণ উপস্থাপনা প্রতিটি মুহূর্তকে রঙিন করে তোলে, খেলোয়াড়ের ভেতরের খেলা আরও তীব্র এবং উদ্দীপনাময় হয়। মাঠে সৃষ্টি হওয়া এই প্রাণবন্ত আবহ আর অনুপ্রেরণা প্রতিটি খেলোয়াড়কে আরও শক্তিশালী ও সাহসী করে তোলে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে শ্রীকৃষ্ণ দাশ বলেন, খেলা মানেই উচ্ছ্বাস। আমি চেষ্টা করি সেই আনন্দকে দর্শকের মনে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে। যদি মানুষ আমার কথায় আনন্দ পায়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে তিনি এখন শুধু ধারাভাষ্যকার নন, বরং এক অনন্য বিনোদনদাতা। বলা যায়, কোকিলের কণ্ঠে মিশে থাকা তাঁর আবেগ ও ভালোবাসাই তাঁকে আলাদা আসনে বসিয়েছে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে।

আরও পড়ুন

  • . এর আরও খবর